নিজস্ব প্রতিবেদক।।
দিন যত বাড়ছে, বিতর্ক ততই তাড়া করে বেড়াচ্ছে ওপার বাংলার খ্যাতিমান গায়ক, সুরকার এবং লেখক কবীর সুমনকে। সৌজন্যে তারই প্রয়োগ করা কিছু শব্দ। তা সে বলার ক্ষেত্রে হোক বা লেখনীতে। কিছুদিন আগে ফোনে এক সাংবাদিককে গালিগালাজ করে বিতর্কে জড়ান তিনি। সেই রেশ না কাটতে জন্ম দিলেন নতুন বিতর্কের।
সম্প্রতি ফেসবুকে একটি লেখা পোস্ট করেন কবীর সুমন। মনে করা হচ্ছে, এক কবিপত্নীকে আক্রমণ করতেই সেখানে বিতর্কিত ভাষা ব্যবহার করেছেন তিনি। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবারও কবীর সুমনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন বিদ্বজ্জন থেকে বিনোদন জগতের ব্যক্তিরা। সঙ্গে যোগ দিয়েছেন নেটিজেনরাও। অনেকেই বলেছেন ‘মস্তিষ্কে বিকৃতি’ ঘটেছে সুমনের।
কিন্তু কী ঘটেছিল? কেন এই ধরনের পোস্ট করলেন কবীর সুমন?
লেখাটি একটি কবিতা। সেই কবিতার ভাষা ঘিরে যত বিতর্ক। ‘পূর্বা’ নামে জনৈক এক নারীকে উদ্দেশ্য করে এটি লেখা। এক কথায়, এটা একটা স্বীকারোক্তিও বলা যায়। পোস্টটিতে ‘পূর্বা’র সঙ্গে তার কিছু অত্যন্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের কথা লিখেছেন কবীর সুমন। তাকে উদ্দেশ্য করে ওই কবিতায় সুমনের প্রশ্ন, তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কথাও কি এবার রেকর্ডিং আকারে বাইরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে?
কবীর সুমনের কবিতা ছিল এরকম- ‘মদনজল’-এর মতো শব্দ; সাধারণত শব্দের ‘কয়েনেজে’ বরাবরের সাহসী ও দুর্দান্ত গানওয়ালা এখানে প্রেক্ষিতের দিক থেকে যে কিঞ্চিৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন তা সম্ভবত সহজেই আঁচ করা যাচ্ছে; অথচ দুঃখটা হল স্বয়ং লেখক সেটা সেভাবে আঁচ করতে পারেননি। তার তথাকথিত ‘অশ্লীল’ (এ কথা মেনেই যে, সাহিত্যে শ্লীল-অশ্লীলে ডিমার্কেশন লাইন নিয়ে কোনো সর্বজনবোধ্য সিদ্ধান্তে এখনও আসেনি কোনো দেশের কোনো ভাষার সাহিত্যই) কাব্যেও তিনি স্বভাবগুণেই লেখেন এমন পঙক্তিও: ‘দুপুরবেলায় আমার বিছানা জুড়ে/আমরা দুজন বেড়াতাম উড়ে উড়ে;।
এ পর্যন্ত না হয় ঠিক আছে। কিন্তু ‘পূর্বাপূর্ব খেলা’ জাতীয় শব্দের ইঙ্গিতের আলোয় ঠিক যতটা অন্ধকার তিনি ঢুকিয়ে দেন, তা শেষ পর্যন্ত হতবাকই করে পাঠককে, কষ্ট দেয়, বিরক্ত করে।
এ হেন কবিতার বিষয়বস্তু ও ভাষা নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় হয়েছে নেটদুনিয়া। কবিতাটিকে ‘চূড়ান্ত অশ্লীল’ বলেও অনেকে তকমা দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার সুমনের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তার চিকিৎসার প্রয়োজন বলেও লিখেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক সাহিত্যিক তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘আমি বলেছিলাম কবীর সুমনের একদম মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে গেছে। ছিঃ!’ অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ও কার্যত নাম না করেই এই পোস্টের জন্য কবীর সুমনকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণ করেছেন।
শুধু সাহিত্যিক বা অভিনেতা নয়, বহু সুমন-অনুরাগীও তার এই পোস্টের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তাদের অধিকাংশই এই পোস্টটিকে সমর্থন করেননি। এমনকি অনেকেই পোস্টটিকে রীতিমতো আপত্তিকর জানিয়েছেন। কেউ কেউ লিখেছেন সামাজিক গণমাধ্যমে কে কী ভাষা বা শব্দ ব্যবহার করছেন তা নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত। আবার তার বহু গুণমুগ্ধও লিখেছেন, সুমনের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার সময় এসেছে।
তবে, একাধিক বিষয়ে একসময়ের প্রতিবাদী কবীর সুমন ঠিক কী কারণে এই কবিতাটি লিখেছেন, তা অনেকের কাছেই স্পষ্ট নয়। যদিও বিতর্কের ঝড় ওঠার পরই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পোস্টটি সরিয়ে দিয়েছেন কবীর সুমন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
