নিজস্ব প্রতিবেদক।।
তন্বীর শুরুটা মাত্র ২০০ টাকা দিয়ে। তবে বছর শেষে বিক্রির পরিমাণ ছয় লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। ঘরোয়া খাবারের বিভিন্ন আইটেম নিয়ে কাজ করে এখন বেশ জনপ্রিয় তার অনলাইন রেস্তোরাঁ মেঘরোদ ফুডভ্যালি।
খুলনার বি.এল কলেজ থেকে ইংরেজিতে অর্নাস শেষ করেছেন রওনক জাহান তন্বী। গতবছর করোনায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেলগাছি গ্রামে বসে থাকতে থাকতে তন্বীর নিজে কিছু করার ভাবনা আসে। প্রথমে ফেসবুক পেজ খুলে ঘরোয়াভাবে খাবার বানিয়ে বাজারজাত শুরু করেন তন্বী। দিন দিন ভালো সাড়া পেতে শুরু করেন তিনি।
খাবারের চাহিদা বাড়তে থাকলে নতুন কিছু করতে চাইলেন তন্বী। সিদ্ধান্ত নিলেন একটি অলনাইন রেস্তোরাঁ দেবেন। নিজের পছন্দের নামে রেস্তোরাঁর নাম দিলেন মেঘরোদ ফুডভ্যালি।
২০২১ সালের ১৫ জানুয়ারিতে চালু হয় মেঘরোদ ফুডভ্যালি। প্রথম অবস্থায় গ্রামের মধ্যেই খাবার সরবরাহ করতে থাকেন। তন্বীকে এ কাজে সার্বক্ষণিক সাহস দিয়েছেন বড় বোন তামান্না। সহজেই ঘরে বসে নানা স্বাদের খাবার খেতে পারায় প্রতিদিনই গ্রাহকও বাড়তে থাকে। যাত্রার ছয় মাসের মধ্যেই অর্ডার বাড়তে থাকে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মানুষের খাবারের অর্ডার নিতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন দফতরেও যাওয়া শুরু করে তন্বীর খাবার।
রওনক জাহান তন্বী বলেন, অনলাইন ব্যবসা শুরুর দিকে প্রথমে তেমন মূলধন ছিল না। ২০০ টাকা নিয়ে কাজ শুরু করি। মেঘরোদ ফুডভ্যালি চালুর পর গত এক বছরে প্রায় ছয় লাখ টাকার খাবার বিক্রি করেছি। অনলাইন রেস্তোরাঁয় শুরু থেকে আজ পর্যন্ত বাজার করা, রান্না করা এবং প্যাকেট করা সব একা হাতেই করতে হচ্ছে। রান্না করা খাবার প্যাকেট হবার পরে ডেলিভারির জন্য পাঁচ থেকে সাত জন কাজ করেন।
এখন শুধু গ্রাম নয়, চুয়াডাঙ্গাসহ বাইরে থেকেও অর্ডার আসে তন্বীর অনলাইন রেস্তোরাঁয়।
তন্বী আরও বলেন, ছোটবেলা থেকে রান্নার প্রতি ঝোঁক ছিল, তাই নিয়মিত রাঁধতে পছন্দ করতাম। সেই রান্নার অভিজ্ঞতাই এখন কাজে লাগছে। ভবিষ্যতে ব্যবসাটি আরও বড় করার ইচ্ছা আছে। হতে চাই দেশের সফল নারী উদ্যোক্তা।
এ নারী উদ্যোক্তা আরও বলেন, স্বামী পিরোজপুরে ব্র্যাক ব্যাংকে কর্মরত। ৮ বছরের ছেলেকে স্কুলে দিতে ও নিয়ে আসা, অসুস্থ মাকে দেখাশোনা করার পর অনলাইনে খাবারের অর্ডার পেয়ে রান্না করতে হয়। তারপরে সংসার সামলানো। তবে নিজের কাছে কাজকে কখনও চাপ মনে হয়নি। সবসময় কাজটাকে উপভোগ করেছি।
যেভাবে চলছে মেঘরোদ ফুডভ্যালি:
রওনক জাহান তন্বী বলেন, বর্তমানে ফেসবুক আইডি তাসিব মেঘ ও ফেসবুক পেজ মেঘরোদ ফুডভ্যালির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। ফেসবুক পেজের থেকেও আইডিতেই বেশি খাবারের অর্ডার আসে। তারপর পর্যায়ক্রমে অর্ডারগুলো প্রস্তুত করে গ্রাহকের কাছে খাবার পাঠানো হয়।
যে সব খাবার মিলবে মেঘরোদ ফুডভ্যালিতে:
কাচ্চি বিরিয়ানি, মোরগ পোলাও, বিফ তেহারি, চিকেন ফ্রাই, টিকিয়া, বুনদিয়া, হাঁস ভুনাসহ নানা ধরনের খাবার অর্ডার অনুযায়ী তৈরি ও সরবরাহ করা হয়। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় মোরগ পোলাও, হাঁস ভুনা ও বুনদিয়া। মেঘরোদ ফুডভ্যালিতে যে কোন খাবারই ১৫০ টাকার প্যাকেজে পাওয়া যায়। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবারের অর্ডার আসতে থাকে। বিকালে ও শুক্রবারে অর্ডারের পরিমাণ বেশি থাকে।
নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষমতায়নে তন্বীর বার্তা:
নারীরাও যে কোনও অংশে কম নয়, তা নারী জাতি এখন প্রমাণ করতে পেরেছে। ঘরে বসে সংসারের কাজের পাশাপাশি অনেক নারীই এখন স্বনির্ভর। অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে অনেকে হয়েছেন সফল। তাই সমাজের নারীদের হতাশ হলে চলবে না। পুরুষের পাশাপাশি নারীকের নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে নিজের চলার পথ সুগম করতে হবে বলে উল্লেখ করেন নারী উদ্যোক্তা রওনক জাহান তন্বী।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
