নিউজ ডেস্ক।।
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসন গোছাতে শুরু করেছে সরকার। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের সময় জেলা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক বা ডিসিদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
নতুন করে ডিসি ফিটলিস্ট প্রণয়নের জন্য ২৫তম ব্যাচের ১৩১ জন কর্মকর্তার ব্যাপারে সরেজমিন তদন্ত করছে নিজ জেলার ডিসিরা। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ ও পদোন্নতি শাখা থেকে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে জেলা প্রশাসক পদে ২১ ব্যাচের ১৪ জন, ২২ ব্যাচের ৩৪ জন এবং ২৪ ব্যাচের ১৬ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছে। তাদের মধ্যে ২১ ব্যাচের অধিকাংশ কর্মকর্তার ওই পদে কর্মকালীন সময় দুই বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। এসব জেলায় শিগগিরই নতুন ডিসি পদায়ন করা হবে।
নির্বাচনের আর দুই বছরেরও কম সময় বাকি রয়েছে। ফলে এখন যারা ডিসি পদে নিয়োগ পাবেন তারাই মূলত নির্বাচন পরিচালনা করবেন। সেজন্য এখন ডিসি পদায়নটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে সরকার। কর্মকর্তারা বলছেন, ডিসিরা নির্বাচনের সময় জেলা রিটার্নিং অফিসারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। যেকোনো কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে বাতিল করার ক্ষমতা ডিসির হাতে ন্যস্ত থাকে। সেনাসহ সব বাহিনী ডিসির নিয়ন্ত্রণে থাকে।
স্বাভাবিক সময়ে পুলিশ বাহিনী জেলায় স্বাধীনভাবে কাজ করলেও নির্বাচনের সময় তারা ডিসির কর্তৃত্ব মেনে চলে। ডিসিরা নির্বাচনের সময় সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করেন। এসব কারণে সব সরকার তাদের নিজস্ব ছক অনুযায়ী নির্বাচনকালীন প্রশাসন সাজিয়ে থাকে। একান্ত অনুগত ও বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের এ পদে নিয়োগ দেয়া হয়। যদিও সম্প্রতি ডিসি নিয়োগে তালগোল পাকিয়ে ফেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কিছু দিন আগে ১১ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দেয় সরকার।
নিয়োগের আগে গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তাদের ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মতাদর্শ এমনকি পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি যাচাই-বাছাই করা হয়। তার পরেও নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর একজন কর্মকর্তা ছাত্রজীবনে সরকারি দল ছাড়া ভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যোগদান করতে পারেননি। এর আগে গত বছরের ২৫ জুন ঢাকাসহ ৯ জেলায় ডিসি পদে রদবদল করা হয়।
এ সময় মেহেরপুরের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন উপসচিবকে। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়। এর এক সপ্তাহ পর কৃষিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ মুনসুর আলম খানকে মেহেরপুরের নতুন ডিসি নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আদেশ জারি করে। একই সাথে ডিসি হিসেবে শহিদুল ইসলামের বদলির আদেশও বাতিল করা হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, যারা মাঠ প্রশাসনে কাজ করেছেন তাদের জন্য জেলা প্রশাসকের পদটি অবশ্যই কাক্সিক্ষত।
দীর্ঘ দিন ধরে ফিটলিস্টে থাকা কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে তাদের ব্যাপারে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খবর নিচ্ছিল। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছিল সবগুলো সংস্থা থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যাদের সংশ্লিষ্টতা থাকবে তাদেরই কেবল ডিসি নিয়োগ দেয়া হবে। নিরপেক্ষ অফিসাররা নিজেদের অবস্থান বদলাতে সময় নেন না। তাই তাদের ওপর ভরসা করতে চায় না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাহলে যারা ছাত্রজীবনে রাজনীতি করেননি।
কিন্তু সততা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তারা কি ডিসি হতে পারবেন না? গত সংসদ নির্বাচনে মাঠ প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগের একটি সংসদ নির্বাচনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে জেতাতে ভূমিকা রাখতে বলা হয়।
পরে নির্দেশনা আসে ফেয়ার নির্বাচনের। এর মাধ্যমে ভিন্ন একটি দলের প্রার্থীকে জিতিয়ে দিতে হবে। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে যাওয়ায় এরই মধ্যে বেশির ভাগ ভোট কাস্ট হয়ে গেছে। এ জন্য আর ফল পরিবর্তন সম্ভব হয়নি।
তার মতে, নির্বাচনকালীন নির্বাচন কমিশন যতই নিরপেক্ষ ও কঠোর হোক না কেন যেসব কর্মকর্তা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট পদে দায়িত্ব পালন করবেন তারা সত্যিকার নিরপেক্ষ না হলে সুকৌশলে ও সূক্ষ্মভাবে নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।
বিশেষ করে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আসনে সিভিল ও পুলিশ প্রশাসন একযোগে কাজ করলে তা শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে কর্মকর্তার দক্ষতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেই। সঠিক জায়গায় সঠিক কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হচ্ছে। মাঠ প্রশাসনে ইতোমধ্যে কর্মকর্তারা সুনামের সাথে কাজ করে চলেছেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
