এইমাত্র পাওয়া

শীঘ্রই অতিরিক্ত সচিব হচ্ছেন ১০০ জন

অনলাইন ডেস্ক।।

নতুন বছরের শুরুতেই জনপ্রশাসনে তিন স্তরে (অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব ও উপসচিব) পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে যুগ্মসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে। পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পদের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যুগ্মসচিব হতে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দিতে নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে  বিসিএস ১৫তম ব্যাচকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এই ব্যাচের ৭৭ জনসহ প্রায় ৩০০ কর্মকর্তার চাকরি জীবনের যাবতীয় তথ্য যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করছে পদোন্নতির সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি)। এ লক্ষ্যে গত ১৪ এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এসএসবির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আজ (বুধবার) আবারও বৈঠকে বসবে এসএসবি। বৈঠকে পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের কর্মজীবনের সব নথি পর্যালোচনা করা হবে।
বিশেষ করে প্রয়োজনীয় নম্বর, চাকরি জীবনের শৃঙ্খলা, দুর্নীতি বিষয়সহ সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিবেচনায় নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে চলতি মাসেই কমবেশি ১০০ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হতে পারে।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গতকালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রশাসনে অতিরিক্ত সচিবের কমবেশি ২০০ পদে কর্মকর্তা রয়েছেন ৪১২ জন। সূত্র জানায়, যুগ্মসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিতে নিয়মিত হিসেবে ১৫তম ব্যাচকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যাডার থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তাকে এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে। এ ছাড়া যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আগে পদোন্নতি না পাওয়া বিভিন্ন ব্যাচের কিছু কর্মকর্তাকেও পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হতে পারে। ফলে এবারের অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জন্য যুগ্মসচিব পদমর্যাদার প্রায় ৩০০ জন কর্মকর্তাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত ১৫তম ব্যাচের রয়েছেন ৯৮ জন (ইকোনমিক ক্যাডারসহ) কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের রয়েছেন ৭৭ জন এবং সদ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়া ইকোনমিক ক্যাডারের ২১ জন কর্মকর্তা রয়েছে।
এর বাইরে বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতি না পাওয়া (লেফট আউট) ১৪৭ জন এবং অন্যান্য ক্যাডারের রয়েছেন ৫০ জন। তবে ইকোনমিক ক্যাডার কর্মকর্তারা প্রশাসন ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সময় অনেকে গণহারে পদোন্নতি পেয়েছেন বলে প্রশাসন পাড়ায় আলোচনা রয়েছে। ফলে এবারের পদোন্নতিতে তাদের (ইকোনমিক) বিষয়টি তেমন গুরুত্ব নাও পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আভাস দিয়েছেন। কবে নাগাদ অতিরিক্ত সচিবের পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন হতে পারে- জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এসএসবির সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ইতোমধ্যে দুটি বৈঠক হয়েছে। আরও দু-একটি বৈঠক প্রয়োজন হতে পারে। বড় ধরনের কোনো অঘটন না ঘটলে এ মাসেই (মার্চ) অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জিও হবে।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিসিএস ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ১৯৯৩ সালে শুরু হয়। প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর এই ব্যাচের ১২৫ জন চাকরিতে যোগ দেন। এ ছোট ব্যাচ ২০০৫ সালে উপসচিব পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও এর ৭ বছর পর ২০১২ সালে তাদের সেই পদোন্নতি হয়। এরপর ২০১৫ সালে যুগ্মসচিব হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেও তাদের পদোন্নতি হয়েছে দ্বিগুণ সময় নিয়ে অর্থাৎ ২০১৮ সালে। যুগ্মসচিব হিসেবে দুই বছর চাকরি করলেই অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জিত হয়। সে হিসেবে এ ব্যাচের অতিরিক্ত সচিব হওয়ার যোগ্যতা হয়েছে ২০২০ সালে। অথচ সেই পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এই ব্যাচের ৭৭ জন কর্মকর্তা বর্তমানে যুগ্মসচিব পদে কর্মরত রয়েছেন। বর্তমান প্রশাসনে ৭৬০ জন যুগ্মসচিব কাজ করছেন। এর মধ্যে আগে পদোন্নতি না পাওয়া কর্মকর্তার সংখ্যা ১৫০-এর বেশি। তাদের মধ্যে বিসিএস ১৯৮৫ (৭ম) ব্যাচ থেকে শুরু করে ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তাও রয়েছে। এদের মধ্য থেকেও উল্লেখযোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুপারিশ করবে এসএসবি। উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিবের পদোন্নতির ক্ষেত্রে উল্লিখিত ব্যাচের প্রতিটি স্তরে সময় বেশি লাগায় অনেক কর্মকর্তার অবসরে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, ১৫তম ব্যাচের অন্তত তিন-চারজন কর্মকর্তা এ বছরের শেষের দিকে অবসরে যাওয়ার সময় নির্ধারিত আছে। তাই দেরিতে পদোন্নতি হওয়ায় তারা সচিব হওয়ার দৌড়ে তো থাকতেই পারবেন না, যারা সেই দৌড়ে থাকবেন তারাও সচিব হয়ে বেশি দিন থাকতে পারবেন না। তাই তাদের পদোন্নতির বিষয়টি দ্রুত সম্পন্ন করার অপেক্ষায় এসএসবির দিকে তাকিয়ে আছেন সবাই। প্রসঙ্গত, গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ অতিরিক্ত সচিব পদে ৯৩ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.