অনলাইন ডেস্ক।।
ফিরে দেখা আগের ছয় বিশ্বকাপের ফাইনালঃ
আরও একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষের দ্বারপ্রান্তে। রোববার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ড। রুদ্ধশ্বাস একটি ফাইনাল দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব। ফাইনালে ওঠা দুটি দলের একটিও অবশ্য এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেনি। তাইতো নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্ব। হতে যাচ্ছে নতুন ইতিহাস।
তার আগে চলুন ফিরে দেখা যাক আগের ছয়টি বিশ্বকাপের ফাইনাল কেমন ছিল।
২০০৭ বিশ্বকাপ ফাইনাল: পাকিস্তান বনাম ভারতঃ
২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোনানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেখানে মুখোমুখি হয়েছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান। ভারত আগে ব্যাট করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করে। ব্যাট হাতে ভারতের গৌতম গাম্ভীর সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেছিলেন। আর পাকিস্তানের উমর গুল নিয়েছিলেন ৩ উইকেট।
১৫৭ রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায়। কিন্তু তাদের আশা দেখাচ্ছিলেন মেসবাহ-উল-হক। জয়ের জন্য শেষ চার বলে তাদের প্রয়োজন ছিল ৬ রান। মিসবাহ ভারতের জগীন্দর শর্মার বলে শর্ট ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু টাইমিং হয়নি ঠিকমতো। শ্রীশান্তের হাতে তালুবন্দি হয়ে আউট হন মিসবাহ। আর ভারত গড়ে ইতিহাস। প্রথম আসরের শিরোপা জিতে নেয় তারা। মাত্র ১৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা ভারতের ইরফান পাঠান।
২০০৯ বিশ্বকাপ ফাইনাল: পাকিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কাঃ
২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালেও ওঠে পাকিস্তান। লর্ডসে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শ্রীলঙ্কার আগে ব্যাট করে ১৩৮ রান সংগ্রহ করে। তার মধ্যে কুমার সাঙ্গাকারা একাই করেন অপরাজিত ৬৪ রান। পাকিস্তানের আব্দুল রাজ্জাক ৩ ওভারে ২০ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান বেশ সাবধানী ব্যাটিং করছিল। তবে তিন নম্বরে শহীদ আফ্রিদি নেমে ৪০ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংস খেলে দলকে শিরোপা জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ম্যাচসেরাও নির্বাচিত হন তিনি। সিরিজ সেরা হন তিলকারত্নে দিলশান।
২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনাল: ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়াঃ
বার্বাডোজে ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। ইংলিশ অধিনায়ক পল কলিংউড টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান। অস্ট্রেলিয়া আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৪৭ রান তোলে। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা ইংল্যান্ডের শুরুটা যদিও ভালো হয়নি। তবে দ্বিতীয় উইকেটে পল কলিংউড ও ক্রেইগ কিসোয়েটার ১১১ রানের জুটি গড়ে দলের জয়কে সহজ করে তোলেন। কলিংউড ১৭তম ওভারের শেষ কলে শেন ওয়াটসনকে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জেতান। হাতে তোলেন আইসিসি বিশ্বকাপের প্রথম ট্রফি।
২০১২ বিশ্বকাপ ফাইনালঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম শ্রীলঙ্কাঃ
ঘরের মাঠে আয়োজিত বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল শ্রীলঙ্কা। তাদের সঙ্গে ফাইনালে উঠেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের স্লো উইকেটে উইন্ডিজ আগে ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রান সংগ্রহ করে। অজান্তা মেন্ডিস ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন।
লক্ষ্য খুব বড় না হলেও সেটা তাড়া করতে নেমে পা হড়কায় লঙ্কানদের। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১৮.৪ ওভারে ১০১ রানে অলআউট হয় তারা। সুনীল নারিন ৩.৪ ওভার বল করে ৯ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। ৭৮ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন মারলন স্যামুয়েলস।
২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল: ভারত বনাম শ্রীলঙ্কাঃ
এই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছিল শ্রীলঙ্কা। সঙ্গে ছিল ভারত। মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনালে টস জিতে লঙ্কানরা ভারতকে ব্যাট করতে আমন্ত্রণ জানায়। স্লো উইকেটে ভারত আগে ব্যাট করে বিরাট কোহলির ৭৭ রানের ইনিংসে ভর করে ৪ উইকেটে ১৩০ রান সংগ্রহ করে। জবাবে কুমার সাঙ্গাকারার ৩৫ বলে ৬টি চার ও ১ ছক্কায় করা অপরাজিত ৫২ রানের ইনিংসে ভর করে ১৭.৫ ওভারে জয়ের বন্দরে নোঙর করে। জিতে নেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম শিরোপা।
২০১৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম ইংল্যান্ড
কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসরে মুখোমুখি হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড। অবশ্য সবগুলো বিশ্বকাপের চেয়ে এই বিশ্বকাপটা ক্রিকেটভক্তদের আলাদাভাবে মনে রয়েছে। আর সেটা শেষ ওভারের জন্য।
আগে ব্যাট করে জো রুটের ৫৪ রানের ইনিংসে ভর করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। জবাবে শুরুটা ভালো হয়নি উইন্ডিজের। কিন্তু চতুর্থ উইকেটে ডোয়াইন ব্রাভো ও মারলন স্যামুয়েলস ৭৫ রানের জুটি গড়ে আশা জাগান। আর অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ শেষ করে আসেন কার্লোস ব্রেথওয়েট। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ক্যারিবিয়ানদের দরকার ছিল ১৯ রান। বেন স্টোকসের করা ওই ওভারটিতে ব্রেথওয়েট টানা চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপা উপহার দেন। এর মধ্য দিয়ে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের দুটি শিরোপা জিতেছিল উইন্ডিজ।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
