এইমাত্র পাওয়া

স্কুল মাঠে তাবু টানিয়ে ক্লাস নিবেন শিক্ষকরা

মোয়াজ্জেম হোসেন, পটুয়াখালী :

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ঘোষণায় পাঠদানের প্রস্তুতি নিচ্ছে কলাপাড়ার শিক্ষকরা। এরই মধ্যে বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তার একের পর এক ধ্বসে পড়ছে। হটাৎ করে জলছাদ ধ্বসের কারণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বিদ্যালয় কতৃপক্ষ। বুধবার বিকেলে শিক্ষক-অভিভাবকদের জরুরী সভা হয়। সভায় খোলা মাঠে তাবু টানিয়ে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটিসহ অভিভাবক, শিক্ষকবৃন্দ। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চাকামইয়া ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের ০৬ নং আনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবন ব্যাবহার অনুপযোগী হয়ে যাবার কারনে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিদ্যালয় কতৃপক্ষ এবং এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে আনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে চলছিল। গত ০৭ সেপ্টেম্বর হটাৎ করে বিদ্যালয়ের জলছাদের অনেকাংশে ধ্বসে পড়ে। দেয়ালের অনেক জায়গায় ধরেছে ফাটল। বর্তমানে স্কুলের ভবনটি কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের শ্রেনিকক্ষে পাঠ দান করা সম্পূর্ণ ঝুকিপূর্ণ। দুই বছর আগে মাটি টেস্ট হলেও আজ পর্যন্ত কোন নতুন ভবন তৈরির করা হয়নি।

আনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.তৈয়বুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের মুল ভবনটি ব্যাবহরের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয় ভবন যেকোন সময় ধ্বসে গিয়ে শিক্ষকসহ কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের জীবন নাশের হুমকি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবগত করেছি। তারা খুব দ্রুত কার্যকর ব্যবস্হা গ্রহন করেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

আনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম কাজল মৃধা বলেন, জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষগুলোর সব জাযগায় বড় বড় ফাটল, ভীমগুলো রড থেকে আলাদা হয়ে খসে পড়েছে। মূল কলামের ঢালাই রড থেকে আলাদা হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের জলছাদ অনেকাংশে ধ্বসে পড়েছে। তিনি আরও জানান, আমরা এ ব্যাপারে বুধবার ম্যানেজিং কমিটি জরুরি সভার আয়োজন করেছি। সভায় সকলের সম্মতি ক্রমে পরবর্তী নতুন ভবন না পাওযার আগ পর্যন্ত স্কুলের আঙ্গিনায় খোলা মাঠে তাঁবু খাঁটিয়ে ক্লাস করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো.আবুল বাশার জানান, খবর পেয়েছি। আমরা ঘটনাটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। একই সাথে বরাদ্ধ চেয়ে প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়েছে। বরাদ্ধ পেলে নতুন ভবন নির্মনের কাজ শুরু করা হবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.