হামিদ পারভেজ :
দাড়িয়ে আছি ঢাকার তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তার ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর সামনে। সহধর্মিণী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা দিচ্ছে। আমার মত কয়েকশো অভিভাবক এখানে দাড়িয়ে আছেন। গতকাল বিকেলে ভোলা থেকে লঞ্চে যাত্রা করে আজ সকালে ঢাকা আসি। অনেক কষ্টে কেবিন মেনেজ করতে পেরেছি। ভোলা বরিশাল দক্ষিনাঞ্চলসহ সারাদেশ থেকে যারা এসেছেন তাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করে এই পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে হয়েছে।
দেশের ৬৪ জেলা থেকে বাস, ট্রেন বা লঞ্চে করে প্রায় ২.৫ লাখ পরীক্ষার্থী আজ ঢাকায় এসেছে। এদের মধ্যে অনেকেরই সাথে অভিভাবক। যাদের থাকার জায়গা নাই তারা আজই ফিরে যাবেন। অনেক বোন আছেন যারা কোলের বাচ্চা নিয়ে এত দূর থেকে এসেছেন।
অনেক গরীব মেধাবী আছে যাদের এত টাকা খরচ করে ঢাকা এসে পরীক্ষা দেওয়ার সম্ভব হয়না। অনেক মেয়েরা আছে যাদের ভাল প্রস্তুতি থাকা সত্বেও অভিভাবক কেউ সাথে আসবেনা বলে পরীক্ষা দিতে পারেনি। অনেকেই গতকাল সারারাত বাসে বা ট্রেনে জায়গা না পেয়ে দাড়িয়ে এসেছেন। কেউ খেয়েছেন কেউ আবার খায়নি। একটি পরীক্ষার জন্য যে কি পরিমাণ শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করতে হয় তা কেবল চাকরি প্রার্থীরাই বুঝতে পারে।
তাই সকল নিয়োগ পরীক্ষা জেলা বা বিভাগে নেওয়া খুব প্রয়োজন। এতে গরীব মেধাবী ও মেয়েরা পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে ও অভাবনীয় দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
