ভিসি, প্রোভিসি ও ট্রেজারার নিয়োগে আইনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই পদ পূরণে অনীহা দেখাচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে প্রস্তাব পাঠানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই তাগাদা দিয়ে আসছে। কিন্তু তেমন সাড়া মিলছে না। সংশ্লিষ্টরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড (বিওজি) শীর্ষ এ পদগুলোতে নিয়োগ না দিয়ে এর পরিবর্তে কোথাও ‘ডেজিগনেটেড’ আবার কোথাও ‘ভারপ্রাপ্ত’ দিয়ে চালাচ্ছে। এছাড়া বিওজি নিযুক্তরা নানা পদবি ব্যবহার করে দায়িত্ব পালন করছেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী এ ধরনের পদে এভাবে নিয়োগ বা দায়িত্ব পালনের কোনোটিই বৈধ নয়।
বর্তমানে দেশে ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালু রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি-প্রোভিসি ও ট্রেজারার তিনটি পদই রয়েছে। এর বাইরে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি থাকলেও নেই প্রোভিসি এবং ট্রেজারার। আবার প্রোভিসি এবং ট্রেজারার থাকলেও নেই ভিসি। রাষ্ট্রপতি নিয়োগ উপাচার্য, ট্রেজারার নেই ১৫টিতে, উপ-উপাচার্য নেই ৩৩টিতে। আর ১৩টিতে এখনো শিক্ষা কার্যক্রমই শুরু হয়নি।
উত্তরা মডেল টাউনে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজিতে ২০১৮ সাল থেকেই রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ভিসি, প্রোভিসি ও ট্রেজারার নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদই পূরণ রয়েছে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, বরেন্দ্র ইউনিভার্সিটি, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ এই শূন্য পদ পূরণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের থেকে একবার নির্দেশনা ও দুই বার তাগিদপত্র দেওয়া হয়। প্রথম দফায় ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নাম পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে নাম না পাওয়ায় পুনরায় একই বছরের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেই অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ এই তিন পদে নিয়োগের জন্য নামের প্রস্তাব পাঠায়নি। ফলে সর্বশেষ চলতি মাসের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়, ‘এ সময়ের মধ্যে নামের প্রস্তাব না পাঠানো হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, কমিশন থেকে বিভিন্ন সময় তাগাদা দেওয়া হলেও তেমন ফল পাওয়া যায় না। এছাড়া এমন ব্যক্তিদের নামের প্রস্তাব পাঠানো হয় যাদের বয়স বেশি এবং সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের যোগ্যতা নেই। ফলে নতুন করে নামের প্রস্তাব পাঠানোর জন্য বলা হয়। এ কারণে পদ পূরণে দেরি হচ্ছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সময়ক্ষেপণের একটা কৌশল। নিয়ম অনুযায়ী, ভিসি, প্রোভিসি ও ট্রেজারার পদে নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানোতে প্রতি পদের বিপরীতে তিন জনের নাম পাঠাতে হয়। এর তিন জনের যোগ্যতা ও বয়স নিয়ম অনুযায়ীই হতে হবে। বয়স হতে হবে ৭০ বছরের নিচে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ড থেকে নামের যে প্রস্তাব পাঠানো হয় তাতে দেখা যায়, এক জনের বয়স বেশি বা কোনো এক জনের যোগ্যতা নেই। ফলে নতুন করে নামের প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় মন্ত্রণালয় থেকে। নিয়োগের প্রক্রিয়া দেরি হলে কর্তৃপক্ষ লাভবান হয়। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ দেওয়া হলে তাকে সম্মানজনক বেতন ও দায়িত্ব কিছুটা হলেও ছেড়ে দিতে হয়, ট্রাস্টি বোর্ডের ক্ষমতা কিছুটা হলেও খর্ব হয়।সূত্র:ইত্তেফাক
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল

