এইমাত্র পাওয়া

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি- বাংলা

ধ্বনি

বই = ব্ + ই

লক্ষ কর, ‘বই’ একটি শব্দ। শব্দটিকে ভাগ করলে আমরা ‘ব’ এবং ‘ই’-এ দুটি বর্ণ পাই। আরও ভাগ করলে পাই ব, অ এবং ই-এই তিনটি ধ্বনি। ‘বই’ শব্দটি উচ্চারণের সময় এ ধ্বনিগুলো আমাদের কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে আসে। এগুলো হচ্ছে ‘বই’ শব্দের ুক্ষুদ্রতম একক। অর্থাত্ এরপর শব্দটিকে আর কোনো ুক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায় না।

শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশের নাম হলো ধ্বনি।

কথা বলার জন্য বা যে কোনো কিছু উচ্চারণের জন্য আমরা আমাদের কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্য নিই। যেমন— কণ্ঠনালি, মুখগহ্বর, দাঁত, ঠোঁট, নাক, জিহ্বা ইত্যাদি। এই সবগুলোকে একসাথে বলা হয় বাগযন্ত্র। বাগযন্ত্রের সাহায্যে নানা রকম ধ্বনি তৈরি হয়। আমাদের উচ্চারিত আওয়াজগুলো বাগযন্ত্রে বাধা না পেলে সৃষ্টি হয় এক রকম ধ্বনি, আর বাধা পেলে সৃষ্টি হয় আরেক রকমের ধ্বনি।

১। ধ্বনি দুই প্রকার— স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

তোমরা ‘আ’ এবং ‘প’ ধ্বনি দুটো উচ্চারণ কর। দেখবে ‘আ’ ধ্বনিটি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে আসা বাতাস বাগযন্ত্রের কোথাও বাধা পাচ্ছে না। আবার লক্ষ কর, এই ধ্বনিটি উচ্চারণের সময় এর

সাথে অন্য কোনো ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছে না। অর্থাত্ এই ধ্বনিটি অন্য কোনো ধ্বনির সাহায্য ছাড়াই উচ্চারিত হতে পারে। এ ধরনের ধ্বনিকে বলা হয় স্বরধ্বনি।

যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে বের হওয়া বাতাস বাগযন্ত্রের কোথাও বাধা পায় না এবং উচ্চারণের সময় অন্য কোনো ধ্বনির সাহায্য প্রয়োজন হয় না সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

উদাহরণ : অ, আ, ই, ঈ ইত্যাদি।

আবার লক্ষ কর, ‘প’ ধ্বনিটি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে নির্গত বাতাস বাধা পাচ্ছে। বাতাস এসে দুই ঠোঁটে আটকে যাচ্ছে। আরেকটি বিষয় লক্ষ কর, প = প্ + অ। ‘প’ ধ্বনিটি উচ্চারণের সময় আমাদেরকে ‘অ’ ধ্বনিটিও উচ্চারণ করতে হচ্ছে। অর্থাত্ উচ্চারণের ক্ষেত্রে অন্য একটি স্বরধ্বনির সাহায্য লাগছে। এ ধরনের ধ্বনির নাম হচ্ছে ব্যঞ্জনধ্বনি।

যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে বের হওয়া বাতাস কোথাও না কোথাও বাধা পায় এবং উচ্চারণে স্বরধ্বনির সাহায্য প্রয়োজন হয়, সেগুলোকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে। উদাহরণ : ক, ঘ, চ, প ইত্যাদি।

লেখক-

মো. সুজাউদ দৌলা. সহকারি অধ্যাপক

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.