এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষা খাতে বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ ও পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতার দাবি বিএমজিটিএ’র

ঢাকা, ১৫ মে: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান, ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং মাদরাসাসহ সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের লক্ষ্যে আসন্ন জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশন (বিএমজিটিএ)।

শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাব-এর মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব ফিরোজ আলমের সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএমজিটিএ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো সরকার সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা দিন দিন বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “মাদরাসা শিক্ষা এখনও নানা অবহেলা ও বৈষম্যের মধ্যে রয়েছে। শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই আসন্ন বাজেটে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা, যা জাতীয় বাজেটের মাত্র ১২ দশমিক ১ শতাংশ। আগের অর্থবছরের তুলনায় বরাদ্দ সামান্য বাড়লেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে মন্তব্য করেন নেতারা।

মহাসচিব ফিরোজ আলম বলেন, “এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বছরের পর বছর বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সরকারি চাকরিজীবীরা পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা পেলেও শিক্ষকরা এখনও বঞ্চিত। আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ঘোষণা করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান, অনুপাত প্রথা বাতিল এবং মাদরাসাসহ সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি। শিক্ষকদের মর্যাদা নিশ্চিত না হলে জাতির মেধাভিত্তিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও যেসব দাবি তুলে ধরা হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— সকল প্রভাষককে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রদান, মাদরাসা থেকে স্কুল-কলেজ এবং স্কুল-কলেজ থেকে মাদরাসায় বদলির সুযোগ চালু, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা এমপিওভুক্তকরণ, শিক্ষা কমিশন গঠন এবং মাদরাসার প্রশাসনিক পদে জেনারেল শিক্ষকদের নিয়োগ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সাকুর, কামরুন্নাহার, মোহাম্মদ আলী, আব্দুল হাই, ফজলুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মেহেদী হাসান সরকার, অর্থ সম্পাদক আলাউদ্দিন, রেজাউল হক মন্ডল, রফিকুল ইসলাম, আরমান শাহজাদা, রিপন খন্দকার, সালেহ উদ্দিন, আসাদুজ্জামান ও দেলোয়ার হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

শিক্ষাবার্তা /এ/১৫ /০৫/২০২৬

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.