এইমাত্র পাওয়া

প্রধান ও সহ-প্রধান নিয়োগ: ১৫–২০ দিন আগেই পরীক্ষা আয়োজনের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডে রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ারে অবস্থিত বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহ-প্রধান নিয়োগ পরীক্ষা দ্রুত আয়োজনের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত ১৭ এপ্রিল নয়—প্রয়োজনে ১৫ থেকে ২০ দিন এগিয়ে ঈদের পরপরই পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নিতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার কথাও উল্লেখ করেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান ও সহ-প্রধানের বহু পদ শূন্য রয়েছে। এতে প্রশাসনিক স্থবিরতা, একাডেমিক তদারকির ঘাটতি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় গতি আসবে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।

এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রতিষ্ঠান প্রধান না থাকলে অনেক সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকে। ভারপ্রাপ্তদের মাধ্যমে কাজ চালানো যায়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয় না। তাই পরীক্ষা এগিয়ে এনে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্নের চেষ্টা চলছে।”

এনটিআরসিএ কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন, কেন্দ্র নির্ধারণ, প্রবেশপত্র ইস্যু ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা—সবকিছুই নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী এগোচ্ছিল। তবে মন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর নতুন সময়সীমা মাথায় রেখে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। বিজি প্রেসের সক্ষমতা ও সময় ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রধান ও সহ-প্রধান পদে আবেদনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষার অপেক্ষায় আছেন। তারিখ এগিয়ে এলে অনেকের প্রস্তুতির সময় কমে যেতে পারে—এমন শঙ্কা থাকলেও অধিকাংশ প্রার্থী দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে মত দিয়েছেন। একাধিক প্রার্থী জানান, “দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত পরীক্ষা হলে অনিশ্চয়তা দূর হবে।”

মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, “যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই। প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে।” তিনি আরও জানান, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা আয়োজনই সরকারের লক্ষ্য।

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ের আগেই আয়োজন করা গেলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক শূন্যতা দ্রুত পূরণ হবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখন দেখার বিষয়, সমন্বিত প্রস্তুতির মাধ্যমে কত দ্রুত নতুন সময়সূচি ঘোষণা করে এনটিআরসিএ।

শিক্ষাবার্তা /এ/০১ /০৩/২০২৬

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.