এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৮২ জনের পদোন্নতি নিয়ে তুলকালাম

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জেলা উপজেলা পর্যায়ে ৮২ জন শিক্ষা কর্মকর্তার পদোন্নতি নিয়ে শুরুতেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও মাত্র একদিন আগেই এই ৮২ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়। এরই মধ্যে পদোন্নতি পাওয়া এই কর্মকর্তাদের কাম্য যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে গতকাল বুধবার দিনভর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নানা ধরনের কানাঘুষা হয়েছে। এমনকি এই পদোন্নতির পেছনে বড় ধরনের কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না তা নিয়েও তুলকালাম শুরু হয়েছে। অবশ্য গতকাল বিষয়টি নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দৃষ্টিতে আনা হলে তিনি অধিকতর যাচাই-বাছাই করার কথা জানিয়েছেন। প্রয়োজনে পুরো পদোন্নতির বিষয়টিই আবার রিভিও করারও ঘোষণা দিয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) ও এর আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৮২ জন কর্মচারীকে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (এটিইও) পদে পদোন্নতির পেছেনে মাউশি কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারো কারো সরাসরি সম্পৃক্ততা বা ইন্ধন ছিল কি না সেটিও অনুসন্ধান করার দাবি উঠেছে। সূত্র বলছে সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি যাদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে তারা সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর, প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারী ও হিসাবরক্ষক ছিলেন। অর্থাৎ এসব কর্মচারীর পদের গ্রেড ছিল ১৩ কিংবা ১৪। কিন্তু এখন নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরপরই পদোন্নতি পাওয়া এসব কর্মকর্তার বর্তমান গ্রেড দাঁড়িয়েছে দশমে। আর পদোন্নতি পাওয়া এই ৮২ কর্মকর্তার সংখ্যাটিও নেহাত কম নয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কর্মকর্তাদের এই পদোন্নতি দীর্ঘ একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এসেছে। চূড়ান্তভাবে ৮২ জনকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। নিয়ম মেনেই এখানে সব করা হয়েছে। কোনো নিয়মের ব্যত্যয় বা ত্রুটি-বিচ্যুতি করার সুযোগ নেই। অপর দিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর সূত্র জানায়, মাউশি চাকরবিধিমালা ২০২১ এর ২/খ এর তফসিল-১ অনুযায়ীই কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। একই সাথে কোনো কর্মকর্তাদের দশম গ্রেডে পদোন্নতি দেয়া বা পাওয়ার ক্ষেত্রে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) দেয়া সুপারিশও এখানে গ্রহণ করা হয়েছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে এখানে মোট পদের বিপরীতে শতকরা ২০ ভাগ সংরক্ষিত রাখার বিষয়েও বিধিমালা বলা হয়েছে। তবে বাকি ৮০ ভাগ পদে সরাসরি নিয়োগের বিধান আছে।

সূত্র আরো জানায়, মোট পদের বিপরীতে সংরক্ষিত ২০ ভাগের হিসেবে এখানে ১৮০ জনের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৮২ জনকে পদোন্নতিতে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো নিয়ম বা বিধির ব্যত্যয় এখানে অবজ্ঞা করা হয়নি কিংবা ভঙ্গ হয়নি। তারপরও মন্ত্রণালয় আরো যাচাই বাছাই করার এখতিয়ার রাখেন। বিষয়টির সুষ্ঠু সুরাহা হওয়া দরকার।

সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (এটিইও) পদে পদোন্নতির বিষয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এ বিষয়ে আমরা কোনো কিছু জানি না। দু’জনেই নতুন দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র। এ ছাড়া কোন দফতর থেকে এটা হয়েছে? পরে বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, সেটা কি হয়েছে আমাদের সেকেন্ডারিতে, কি হয়েছে এর মধ্যে, তো কোনো ধারণা নেই আপনারা যেহেতু এটা বলেছেন, এটা আমরা খতিয়ে দেখব। এটাকে রিভিউ করতে হবে।

উল্লেখ্য সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর, প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারী, হিসাবরক্ষক প্রভৃতি পদে কর্মরত ছিলেন পদোন্নতি পাওয়া এই ৮২ জন কর্মকর্তাকে ১০ম গ্রেডে পদোন্নতি দিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বেশ বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রঃ নয়া দিগন্ত

শিক্ষাবার্তা /এ/২৬/০২/২০২৬

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.