এইমাত্র পাওয়া

ছাত্রীকে যৌ-ন হয় রানি ও মামলার হুমকির অভিযোগে রাবি শিক্ষকের বহিষ্কার দাবি

রাজশাহী: ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও মামলার হুমকির অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে এমন অভিযোগকে ‘বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেছেন ওই শিক্ষক।

সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অ্যাকাডেমিক ভবনে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানজিল ভূঁইয়ার চেম্বারে তালা লাগিয়ে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তানজিল ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্য করে আসছেন। পাশাপাশি ছাত্রীদের অনৈতিক প্রস্তাব, ভয়ভীতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্যেরও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাজমহল আকতার তিথি বলেন, “উনি (তানজিল ভূঁইয়া) নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কটূ মন্তব্য করেন। যেমন- ‘তোমার কোমর তো ভালো দোলে’, ‘রাতের রাণী’, ‘রাতের গার্ড’….।

“আমাদের প্রথম ব্যাচ থেকে শুরু করে সপ্তম ব্যাচ পর্যন্ত অনেকেই উনার এমন আচরণের শিকার হয়েছেন। আগের এক ঘটনায় উনি শিক্ষার্থীদের মারতে পর্যন্ত এসেছিলেন, সেই ভিডিও আছে।”

তিনি বলেন, “উনার (তানজিল ভূঁইয়া) কু-প্রস্তাবে রাজি না হলে সেই শিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বর ছড়িয়ে দেন। এমনকি তার তাকানোর ভঙ্গিতেও ভয় লাগে। আমরা ক্লাসে যেতেও এখন ভয় পাচ্ছি। তাই উনার স্থায়ী বহিষ্কার চাই।”

আরেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “তানজিল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের প্রতি অশোভন আচরণ ছাড়াও শিক্ষার্থীদের মারতে আসা ও মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আছে। তিনি নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেছেন; এরপর তার স্ত্রীও সহপাঠীদের নানা হুমকি দিতের। এসব ঘটনায় আমরা বিভাগের পক্ষ থেকে তার স্থায়ী বহিষ্কার দাবি করছি।”

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করে তানজিল ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থীরা যেসব অভিযোগ করেছে, তার একটিও সত্য নয়। সবগুলো বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক।

তিনি বলেন, “ঘটনার শুরু আমাদের প্রথম ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে। এক ট্যুরে ওই শিক্ষার্থী মেয়েদের রুমে কয়েকজন ছেলে নিয়ে মাদক সেবন করছিল। আমি গিয়ে বাধা দেই।

“সেই ঘটনাতেই, সে আমার নামে এসব ছড়াচ্ছে। তার পাশাপাশি সিনিয়র কয়েকজন শিক্ষার্থী বিভাগের বাকি ছাত্র-ছাত্রীদের উস্কে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে এসব করাচ্ছে।”

শিক্ষার্থীদের মারমুখী হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তানজিল ভূঁইয়া বলেন, “আমি বলেছিলাম, যদি আমার স্ত্রীর কিছু হয় তাহলে মামলা করব, এর বাইরে কিছু না। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে ফাঁসাচ্ছে। যদি প্রমাণ থাকে, তাহলে সেটা সামনে আনুক।”

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১০/১১/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.