রংপুরঃ রংপুর কারমাইকেল কলেজের মোট শিক্ষার্থীর ৭৪ শতাংশেরই নেই আবাসন ব্যবস্থা। মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়তি খরচ হয়। নিরাপত্তা নিয়েও থাকে শঙ্কা। এ ছাড়া ছয়টি হলের বেশির ভাগই বেহাল। দীর্ঘদিন আগে নির্মিত হওয়ায় এগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
সম্প্রতি কেবি হলের শিক্ষার্থী আপন ও সৌরভ ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ তাদের ওপর খসে পড়ে পলেস্তারা। ভাগ্যক্রমে তারা প্রাণে বেঁচে গেলেও এ ধরনের ঘটনা হরহামেশা ঘটছে কলেজের ছাত্রাবাসগুলোতে। কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানালেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থী আপন বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ ঘটনার পর পরিদর্শনসহ শুধু তালিকা করে রাখে। বাস্তবে সংস্কার হয় না। রংপুর কারমাইকেল কলেজে আবাসন সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে ১৫ বছর ধরে দুটি হল বন্ধ। সেগুলো সংস্কারসহ খুলে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। বর্তমানে কলেজে লেখাপড়া করছেন প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী। সাতটি হলে সাড়ে ৯০০ শিক্ষার্থী থাকছেন। বাকিদের কলেজপাড়ায় মেস ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ১৫ মার্চ ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সহিংসতার আশঙ্কায় এক মাসের জন্য চারটি ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করে কলেজ প্রশাসন। অধ্যক্ষ ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের নামে একটি মামলাও করেন। এ নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করলে ওই বছর ১৩ জুন কলেজ একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে জিএল ছাত্রাবাস, কেবি ছাত্রাবাস, সিএম ছাত্রাবাস ও এমএজি ওসমানী ছাত্রাবাসের ৪০০ শিক্ষার্থীর আসন বাতিল করা হয়। ২০ জুন চারটি ছাত্রাবাস খালি করে তালা মেরে দেওয়া হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন সময় প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবির মুখে আট বছর পর কলেজ প্রশাসন জিএল ও কেবি ছাত্রাবাস খুলে দেয়। প্রতিশ্রুতি দিলেও সিএম ছাত্রাবাস ও এমএজি ওসমানী ছাত্রাবাসের তালা ১৫ বছরেও খোলা হয়নি।
ছাত্রশিবিরের আধিপত্য ঠেকাতে এসব ছাত্রাবাস (হল) বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। কলেজ প্রশাসন বলছে, শিবির ঠেকাতে নয়; বরং অর্থাভাবে সংস্কার করতে না পারায় এতদিন ছাত্রাবাস খুলে দেওয়া যায়নি।
কলেজে ৯টি ছাত্রাবাস। সংকট সত্ত্বেও দুটি বন্ধ। একটি ছাড়া বাকি ছয়টির অবস্থা করুণ। এর মধ্যে ছাত্রদের জন্য জিএল ছাত্রাবাস, কেবি ছাত্রাবাস ও আবু সাঈদ নামে (নতুন) তিনটি ও ছাত্রীদের জন্য বেগম রোকেয়া, শহীদজননী জাহানারা ইমাম, তাপসী রাবেয়া ও তারামন বিবি নামে চারটি ছাত্রীনিবাস রয়েছে। সেখানে আসনের চেয়ে দ্বিগুণ শিক্ষার্থী থাকছেন।
এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ছাত্রাবাসগুলোর অবকাঠামোসহ প্রয়োজনীয় আসবাব ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভবনজুড়ে আগাছা; খসে পড়েছে পলেস্তারা। স্যাঁতসেঁতে ও ভূতুড়ে পরিবেশ। চারদিকে ঝোপঝাড়, ভেতর-বাইরে ময়লার স্তূপ।
অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান বলেন, ‘হলে জায়গা না পাওয়ায় কলেজপাড়ায় মেস ভাড়া করে থাকছি। প্রতি মাসে অন্তত তিন হাজার টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে।’ অধ্যক্ষ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘হলগুলো সংস্কারের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তারা সিদ্ধান্ত দিলে নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হবে।’
জেলা প্রশাসক রবিউল ফয়সাল বলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছি। হল সংকট রয়েছে। এসব বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। সমস্যাগুলো যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করা হবে।’
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৩/১০/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
