নিউজ ডেস্ক।।
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে পূর্ণ উদ্যমে চলছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তুতি। নির্বাচনসংক্রান্ত যাবতীয় কাজ ইতোমধ্যে অনেকটাই গুছিয়ে এনেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। নির্বাচনী কেনাকাটার ৭০ শতাংশ এর মধ্যেই শেষ হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারদের প্যানেল প্রস্তুত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কর্মকর্তাদের তালিকা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে ইসির তরফে। চিঠিতে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কর্মকর্তাদের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে।
আগামী জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের যত কাজ, এর সিংহ ভাগ চলতি মাসেই শেষ করার পরিকল্পনা করছে ইসি। সেই হিসাবে এখন চলছে শেষ ধাপের প্রস্তুতি। আগামী অক্টোবর মাসজুড়ে চলবে রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ। এ ছাড়া আগামী মাসের শেষ দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও ইসির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে কেনাকাটা, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণের কাজ চলবে। ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০০ সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও আসন কাটাকাটি ও কেন্দ্রের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ফরিদপুর, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় আন্দোলন চলছে। এ ক্ষেত্রে ইসি থেকে বলা হয়েছে- প্রতিষ্ঠানটি আদালতের দিকে তাকিয়ে আছে। আসন নিয়ে আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেভাবেই অগ্রসর হবে ইসি।
ভোটারদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৮ নভেম্বর। সব ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে এর মধ্যেই জানিয়েছে ইসি। আরও বলা হয়েছে, আগামী রমজান শুরুর কমপক্ষে এক সপ্তাহ
আগে ভোটানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
জাতীয় নির্বাচনের কারণে বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলার সময়কাল এগিয়ে আনা হয়েছে। আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে এ মেলা।
এদিকে ইসির কাজের গতি বাড়াতে এবং কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে দুটি আইনের সংশোধনী এনেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অন্যদিকে নির্বাচনের প্রাক-প্রস্তুতি দেখতে আগামী রবিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর্যবেক্ষক টিম বৈঠক করবে ইসির সঙ্গে।
এবারের নির্বাচনে প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিবন্ধনে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামে একটি অ্যাপ বানাবে ইসি। নিবন্ধিত প্রবাসীরাই পোস্টাল ব্যালট পেপারে ভোট দিতে পারবেন। নিবন্ধন করে দেশে এসে কোনো প্রবাসী ভোট দিতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে এবং কাজের গতি বাড়াতে যে দুটি আইনের সংশোধনী এনেছে সরকার, তার মধ্যে একটি হচ্ছে- নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫। এ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সার্ভিস গঠন করার কথা বলা হয়েছে। ফলে নির্বাচন আয়োজনে ইসিকে আর প্রেষণে কর্মকর্তা আনতে হবে না। ইসিতে সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিব পদে পদোন্নতি পাবেন এ প্রতিষ্ঠানেরই কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ ২০২৫ সংশোধন করেছে সরকার। এ সংশোধনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন পরিচালনায় যারা অবহেলা করবেন, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতি ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারবে নিয়োগকারী
কর্তৃপক্ষ।
সংশোধনী আনার বিষয়ে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. আব্দুল আলীম বলেন, সংস্কার কমিশন থেকে নির্বাচন কমিশন সার্ভিস গঠনের সুপারিশ করা হয়েছিল। এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এখন আর সচিব, যুগ্ম সচিব অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে আনতে হবে না। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারাই সচিব, উপসচিব, যুগ্ম সচিব হতে পারবেন। এতে কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের গতি বাড়বে। পাশাপাশি বাড়বে জবাবদিহিতা।
নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, আরও আগেই ইসি নির্বাচনী রোডম্যাপে ঢুকে গেছে। যে সকল কাজ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে, তাতে জনগণের কাছে একটা বার্তা যাবে যে, নির্বাচনের জন্য ইসির প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। ইসির নির্বাচনী প্রস্তুতি পূর্ণ উদ্যমেই চলছে। সঠিক পথেই হাঁটছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনও নিজেদের প্রস্তুতির বিষয়ে সন্তুষ্ট। নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সার্বিক কাজ নিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, নির্বাচনী প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। ইসির কোনো কাজ কোন পর্যায়ে রয়েছে এর একটি বিবরণ তুলে ধরেন এ কর্মকর্তা। এতে তিনি উল্লেখ করেন- ইইউর প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক টিমের সঙ্গে রবিবার ইসির বৈঠক করার কথা রয়েছে। প্রতিনিধি দলে তিনজন বিদেশি ও চারজন স্থানীয় পর্যবেক্ষক থাকার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন সামগ্রীর মূল কেনাকাটা চলতি সেপ্টেম্বরে শেষ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে মার্কিং সিল, গালা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের লক, হেসিয়ান ব্যাগসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম এসেছে। ৭০ শতাংশ কেনাকাটার কাজ শেষ। চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী সব সামগ্রী পৌঁছে যাবে। নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন ও অংশীজন তথা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের সময়সূচি নির্ধারণ আগামী কমিশনসভায় চূড়ান্ত হবে। রবি বা সোমবার এ সংক্রান্ত সভা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ইসির হাতে থাকা সম্ভাব্য সব কাজ যথাসময়ে গুছিয়ে নিতে পারলে প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি বাড়বে। চলমান গতিতে কাজ করলে নির্বাচন নিয়ে কোনো জটিলতা বা ধীরগতির অভিযোগ থাকবে না এবং ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে ইসির কোনো সমস্যা হবে না।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
