ঢাকাঃ ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ, কিন্তু ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে সুপারিশ বঞ্চিত ১৬ হাজার ২১৩ জন প্রার্থী বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই দাবি জানানো হয়।
বক্তারা জানান, ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর বেসরকারি স্কুল-কলেজের শূন্যপদ পূরণে এনটিআরসিএ ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে ১৮ লাখ ৬৫ হাজার ৭১৯ জন আবেদনকারীর মধ্যে প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হন ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৯১১ জন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণের সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার ৮৬৫ জন এবং মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন ৬০ হাজার ৫২১ জন। তারা সবাই রাষ্ট্র কর্তৃক যাচাইকৃত যোগ্য শিক্ষক হলেও সম্প্রতি প্রকাশিত ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে এক লাখের বেশি শূন্যপদ থাকলেও সুপারিশ পেয়েছেন মাত্র ৪১ হাজার ৬২৭ জন। ফলে ১৬ হাজার ২১৩ জন প্রার্থী নিয়োগবঞ্চিত হয়েছেন।
মানববন্ধনে প্রার্থীরা জানান, এদের মধ্যে অনেকে স্কুল ও কলেজ উভয় পর্যায়ের সনদপ্রাপ্ত হলেও একটিমাত্র পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হলে প্রকৃত নিয়োগ বঞ্চিতের সংখ্যা আরও কম হবে। তবুও ৬০ হাজারের বেশি পদ শূন্য রয়ে গেছে।
তারা অভিযোগ করেন, বিগত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধাপ পেরিয়ে সর্বোচ্চ মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিলেও তারা এখন হতাশা, মানসিক চাপ এবং সামাজিক নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন।
বক্তারা বলেন, ঘোষিত ১৯তম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা পরিবর্তিত পদ্ধতিতে হবে। তাই সনদের মেয়াদ থাকা অবস্থায় ১৮তম নিবন্ধনের সব নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীর সুপারিশ নিশ্চিত করে এরপর ১৯তম সার্কুলার প্রকাশ করা উচিত।
তাদের দাবি, তিন বছরের অগ্রিম শূন্যপদের তথ্য নিয়ে রাখা হয়েছে। সুতরাং বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ দিলে অনেক পদ তবুও খালি থেকে যাবে। এছাড়া সদ্য সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেকে যোগদান না করায় শিক্ষক সংকট আরও বেড়ে যাবে, যা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
তারা জানান, ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক সংকট নিরসনে ১৫ হাজার ১৬৩ জনের চাহিদা নিয়ে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছিল। এবারও ৬০ হাজারের বেশি শূন্যপদে মাত্র ১৬ হাজার ২১৩ জনকে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব এবং এই পদক্ষেপ নেওয়া হলে শিক্ষাখাত উপকৃত হবে।
প্রার্থীরা জানান, তারা ইতোমধ্যেই প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, শিক্ষা সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিবের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
তারা জোর দিয়ে বলেন, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না, বরং নিজেদের ন্যায্য অধিকার নিয়োগ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা চান, যা ব্যক্তিগত স্বার্থ নয় বরং জাতির শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সরকার ও এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলে আশা করি।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৩/০৯/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
