নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ ২০২৩ সালের অনার্স ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রতি বিশেষ নির্দেশানাবলী দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এতে পরীক্ষা শৃঙ্খলা সম্পর্কিত অপরাধ ও শাস্তি কি হবে তাও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
শনিবার (৫ জুলাই) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ এনামুল করিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়।
এতে বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ/ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক জানানো যাচ্ছে যে, সম্প্রতি পরীক্ষা গ্রহণ ও উত্তরপত্র প্রেরণের ক্ষেত্রে যেসব ভুল পরিলক্ষিত হচ্ছে তা নিম্নরুপ:
পরীক্ষা কমিটি পরীক্ষার দিন ট্রেজারী থেকে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট গ্রহণের সময় সময়সূচী অনুযায়ী সঠিক প্রশ্নপত্রের প্যাকেট আনার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট উন্মুক্ত করার (প্যাকেট কাটার) পূর্বে সঠিক কোডের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট আছে নিশ্চিত হবার জন্য প্রতিটি প্যাকেট যাচাই করে নিশ্চিত হয়ে প্যাকেট উন্মুক্ত করবেন। পরীক্ষার সময়সূচীর বাইরে অন্য কোন কোর্সের প্রশ্নের প্যাকেট খোলা হ’লে তার দায় দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষ এবং পরীক্ষা কমিটির সদস্যগণের উপর বর্তাবে এবং এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষার উত্তরপত্র এবং হাজিরাপত্রে ইনভিজিলেটর যথাযথভাবে যাচাই না করে স্বাক্ষর করেন। প্রায়ই হাজিরাপত্রে উত্তরপত্রের ক্রমিক নম্বর, উত্তরপত্রে রোল নম্বর, রেজিঃ নম্বর, কোর্স কোড ভুল থাকে। যদিও প্রবেশ পত্র রেজিঃ কার্ড যাচাই করে উত্তরপত্র এবং হাজিরাপত্রে ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর করার বিধান রয়েছে। উত্তরপত্রের বান্ডেল উপরের বোর্ডে উল্লিখিত বান্ডেল লেভেলে বিষয় ও কোর্স কোডের সাথে ভিতরের উত্তরপত্রের বিষয় ও বিষয় কোড ভিন্ন পাওয়া যায়। উত্তরপত্রের বান্ডেল তৈরীর সময় সঠিক বান্ডেল লেভেল এবং সে অনুযায়ী উত্তরপত্র প্যাকেট করার বিষয়টি পরীক্ষা কমিটি নিশ্চিত করবে। বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র ও Report ফরম যথাযথভাবে পূরণ ও প্রেরণ করা হয় না। Report এ বহিষ্কারের কারণ সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয় না। পরীক্ষার হল থেকে পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র জমা না দিয়ে লুকিয়ে নিয়ে চলে যেতে পারে এবং অতিরিক্ত উত্তরপত্র গ্রহণ করে তা বাড়ীতে নিয়ে লিখে পরবর্তী পরীক্ষায় সংযোজন করতে পারে। ইনভিজিলেটরের অসাবধানতার ফলে এ ঘটনা ঘটতে পারে। উত্তরপত্রের সংখ্যা না মিলানো পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ আসনে বসিয়ে রেখে সকল উত্তরপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এতদসত্ত্বেও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে ঐ রুমের উত্তরপত্র ও OMR ফরম পৃথক ভাবে সংরক্ষন করে নিম্নস্বাক্ষরকারীকে অবহিত করতে হবে। কোন অবস্থাতেই ঐ রুমের উত্তরপত্র ও OMR অন্য উত্তরপত্র ও OMR ফরমের সাথে মেলানো যাবে না। পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে ভূয়া পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এ ধরনের অপরাধ রোধে মূল প্রবেশপত্র এবং রেজিস্ট্রেশন কার্ড ছাড়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ শাস্তি যোগ্য অপরাধ এ বিষয়টি পরীক্ষার্থীদের জানাতে হবে। পরীক্ষা হলে নকল প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা থাকলে উপর্যুক্ত প্রমাণ সহ (নকলের কপি, ছবি ইত্যাদি) শিক্ষার্থীর রোল, রেজিস্ট্রেশন ও শিক্ষাবর্ষ উল্লেখ করে গোপনীয় প্রতিবেদন নিম্নস্বাক্ষরকারী বরাবরে প্রেরণ করতে হবে। পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধ এবং এর শান্তি সংক্রান্ত বিধান (যা একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোদিত) এই সাথে সংযুক্ত করা হলো। এ বিধান নোটিশ বোর্ড এ প্রদর্শন সহ সকল শিক্ষক এবং পরীক্ষার্থীদের অবহিত করতে হবে। উত্তরপত্র বান্ডেল লেভেলের বিষয় ও কোর্স কোড দেখে পরীক্ষককে দেওয়া হয়। ফলে উত্তরপত্র গ্রহণ করে বাড়ীতে নিয়ে খোলার পর পরীক্ষক বুঝতে পারেন তিনি ভুল বিষয়/কোডের উত্তরপত্র পেয়েছেন। এর ফলে উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয় এবং ফলাফল প্রকাশে সমস্যা সৃষ্টি হয়। উত্তরপত্রের বান্ডেল তৈরীর সময় সঠিক বান্ডেল লেভেল এবং সে অনুযায়ী উত্তরপত্র প্যাকেট করার বিষয়টি পরীক্ষা কমিটি নিশ্চিত করবে।

উপরে উল্লিখিত ভুল সম্পর্কে সতর্ক থেকে পরীক্ষা গ্রহণ এবং উত্তরপত্র প্রেরণে সংশ্লিষ্টদের আরো সতর্ক থাকার নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো।
পরীক্ষা শৃঙ্খলা সম্পর্কিত অপরাধ:
ক) পরীক্ষা কক্ষে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করা ও কথাবার্তা বলা;
খ) পরীক্ষা কক্ষে ধূমপান করা;
গ)পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন বা কোন ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী বহন;
ঘ) দূষণীয়/অননুমোদিত কাগজপত্র সঙ্গে রাখা;
ঙ)দূষণীয়/অননুমোদিত কাগজপত্র হতে উত্তরপত্রে লেখা;
চ) প্রশ্নপত্রে উত্তর লিখা/প্রশ্নপত্রে লেখা উত্তর হতে উত্তরপত্রে লেখা;
ছ) পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন বা কোন ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ব্যবহার করে উত্তরপত্রে লেখা;
জ) পরীক্ষা কক্ষের নির্দিষ্ট স্থানের পরিবর্তে অবৈধভাবে অন্য স্থানে আসন গ্রহণ করা;
ঝ) ডেক্স, বেঞ্চ, কাপড়, শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গ, ব্ল্যাকবোর্ড, কক্ষের দেওয়াল বা অন্য কিছুতে লেখা এবং সেখান থেকে উত্তরপত্র লেখা; ঞ) উত্তরপত্রে অস্বাভাবিক, আপত্তিকর কিছু লিখা, অযৌক্তিক কোন মন্তব্য করা অথবা উত্তরপত্রের মধ্যে টাকা রাখা;
ট) রোল নম্বর পরিবর্তন/পরষ্পর রোল নম্বর বিনিময় করা (উত্তরপত্র একে অপরের সাথে পরিবর্তন); ঠ) মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে বিশেষ সুবিধা গ্রহণ/সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা করা;
ড) মিথ্যা পরিচয় প্রদান করে অবৈধভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা;
ঢ) পরীক্ষার কক্ষ হতে উত্তরপত্র বাইরে পাচার করা বা বাইরে থেকে লেখা উত্তরপত্র সংযোজন করা;
ণ)উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠা পরিবর্তন করা;
ত) ইনভিজিলেটরের নিকট উত্তরপত্র দাখিল না করে পরীক্ষার হল ত্যাগ করা, ইনভিজিলেটর কর্তৃক চাহিবামাত্র দূষণীয় কাগজপত্র প্রদান না করে তা নাগালের বাইরে ফেলা/ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা/গিলে ফেলা;
থ) উত্তরপত্র বিনষ্ট করা/ছিড়ে ফেলা, দূষণীয় কাগজপত্র/দ্রব্যাদি, উত্তরপত্র বা প্রবেশপত্র ইত্যাদি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা বা জব্দ করার ক্ষেত্রে কোনরুপ বাধা সৃষ্টি করা;
দ) পরীক্ষা কক্ষে পরীক্ষার কাজে নিয়োজিত ইনভিজিলেটর/কর্তব্যরত ব্যক্তি সম্পর্কে কটুক্তি, গালাগাল, তাঁর সাথে অসদাচরণ বা তাঁকে কোনরুপ ভীতি প্রদর্শন করা। পরীক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গকে পরীক্ষাল হলে বা হলের বাইরে লাঞ্ছিত করা বা লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা। পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার কক্ষে কেন্দ্র চত্ত্বর বা বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা অথবা পরীক্ষা পরিচালনার সাথে জড়িত কোন ব্যক্তির সাথে অসদাচরণ করলে বা তাঁকে দৈহিক আক্রমন করলে;
ধ)সুষ্টভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠনে কোনরুপ বাধা সৃষ্টি,গোলযোগ সৃষ্টি, অন্যকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধা প্রদান, অন্য পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার হল ত্যাগে বাধ্য না উস্কানি প্রদান, পরীক্ষা কক্ষ ভাংচুর, আসবাবপত্র ভাংচুর করা বা আগুন দেওয়া।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৫/০৭/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল