নতুন শিক্ষাক্রম:কেমন প্রশ্নে হচ্ছে মূল্যায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

নতুন শিক্ষাক্রমের নিয়মে পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। সারা দেশে প্রায় ৫০ লক্ষ পরীক্ষার্থী নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষায় অংশগ্রহন কেরে।

এত দিন পরীক্ষা মানেই ছিল একই বেঞ্চে একজন, দুজন বা তিনজন বসা। পরীক্ষার হলে এক পরীক্ষার্থীর অন্য কারও সঙ্গে কথা না বলা। ঘাড় ঘোরালেই ধরা পড়া। সঙ্গে বই থাকলে তো কথাই নেই, পারলে বহিষ্কার। কিন্তু এবার পরীক্ষার হলে গিয়ে দেখা গেল একেবারে উল্টো চিত্র।

অধ্যক্ষের সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণির একটি পরীক্ষার হলে গিয়ে দেখা গেল, একসঙ্গে গোল হয়ে বসেছে কয়েকজন শিক্ষার্থী। নিজেদের মধ্যে আলাপ করছে। তাতে প্রমিত ভাষা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এর ভিত্তিতে খাতায় লিখছে। এমনকি, সঙ্গে আছে পাঠ্যবই। প্রয়োজনে সেখান থেকেও সহায়তা নেওয়ার সুযোগ আছে।

অন্যদিকে হলে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকেরা তাৎক্ষণিকভাবেও পরীক্ষার কিছু অংশের মূল্যায়ন করে নির্ধারিত শিটে লিখে ফেলছেন। পরে উত্তরপত্রের ভিত্তিতে হবে বাকি মূল্যায়ন।

নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, এভাবেই নতুন নিয়মে হচ্ছে মাধ্যমিকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কাজ। শুধু রাজধানীর উদয়ন বিদ্যালয়েই নয়, আজ থেকে সারা দেশেই মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শুরু হয়েছে ষাণ্মাসিক মূল্যায়ন বা প্রচলিত অর্থে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অধীনে সারা দেশের এক কোটির মতো শিক্ষার্থী এই মূল্যায়ন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।

কেমন প্রশ্নে হচ্ছে মূল্যায়ন:

বিষয় ও শ্রেণিভেদে খাবার বা টিফিনের বিরতি দিয়ে চার থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টায় হচ্ছে এ মূল্যায়ন। যেমন অষ্টম ও নবম শ্রেণির জন্য পাঁচ ঘণ্টা এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির জন্য চার ঘণ্টায় হচ্ছে মূল্যায়ন। সময়সূচি অনুযায়ী, নির্ধারিত দিনে একটি বিষয়ের মূল্যায়ন হবে। বিরতি দিয়ে এ মূল্যায়নের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে মাসব্যাপী চলবে মূল্যায়ন কার্যক্রম।

এবার হাতে-কলমে কাজ ও কার্যক্রমভিত্তিক লিখিত অংশের ভিত্তিতে হচ্ছে মূল্যায়ন। প্রশ্নের ধরন একেবারে ভিন্ন। যেমন ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা বিষয়ের মূল্যায়নে প্রশ্নপত্রে বলা হয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠানের এক অংশে থাকবে আলোচনা সভা, আরেক অংশে থাকবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

এর ভিত্তিতে মূলত অনুষ্ঠানটি কীভাবে আয়োজন করা হবে, সেটি নিয়েই মূলত মূল্যায়নের প্রশ্নগুলো বা কী কী করতে হবে, তা সাজানো হয়েছে। এতে তিনটি ভাগে মূল্যায়ন কার্যক্রমটি করতে বলা হয়। প্রথম কাজ হিসেবে এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জোড়ায় আলোচনার ভিত্তিতে কাজগুলো করতে বলা হয়। যেমন প্রথমে জানতে চাওয়া হয়, এ অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে কথা বলা যায়, এমন একটি তালিকা তৈরি করতে।

প্রথমে নিজে নিজে একটি তালিকা করে খাতায় লিখতে হবে। এরপর জোড়ায় থাকায় সহপাঠীর সঙ্গে আলোচনা করে নতুন কোনো ব্যক্তি খুঁজে পেলে তা খাতায় লিখতে বলা হয়। সর্বশেষ দুটি তালিকা একসঙ্গে করে একটি চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করতে হবে। তারপর এই তালিকা থেকে যেকোনো একজন ব্যক্তির নাম বাছাই করতে হয়। তারপর বাছাই করা ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের নমুনা তৈরি করতে হবে। তাতে সর্বনাম অনুযায়ী ক্রিয়া শব্দের মর্যাদা বজায় রাখতে হবে। এ ছাড়া তাতে বিবৃতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক বাক্য ব্যবহার করতে হবে।

দ্বিতীয় কাজ হিসেবে শিক্ষার্থী কীভাবে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে চায়, তা নিয়ে একটি ছোট (১০০ শব্দের মধ্যে) অনুচ্ছেদ লিখতে হবে। অনুচ্ছেদে অন্তত পাঁচ শ্রেণির শব্দের ব্যবহার থাকতে হবে। এ ছাড়া অন্তত পাঁচ ধরনের যতিচিহ্নের ব্যবহার থাকতে হবে। এর ভিত্তিতে আরও কিছু বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দও জানতে চাওয়া হবে।

তৃতীয় কাজ হিসেবে বলা হয়, এই অনুষ্ঠান আয়োজন ঘিরে সাইনবোর্ড, পোস্টার, ব্যানার, আমন্ত্রণপত্র কিংবা বিজ্ঞাপনের মধ্যে থেকে যেকোনো একটির নমুনা লেখা খাতায় তৈরি করতে বলা হয়। কাজটি হবে একটি দলীয় কাজ। পাঁচজনের দলে কাজটি হবে।

এই মূল্যায়নে প্রশ্ন বা শিক্ষার্থী নির্দেশিকা একেবারে ভিন্ন। এতে একেকজন শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা একেক রকম হবে। মুখস্থ করে লেখার সুযোগ নেই। উত্তরপত্র দেখেই ধারণা করা যাবে এটি শিক্ষার্থী নিজে থেকে লিখেছে, নাকি অন্য কোনো উপায়ে লিখেছে।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/জামান/০৪/০৭/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.