সুভাষ বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিবেদক: নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার রাবেয়া চৌধুরী মহিলা কলেজ সরকারি খাতায় উচ্চ মাধ্যমিক। কিন্তু কলেজটির অধ্যক্ষ বিবেকানন্দ মহন্ত ও সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা জালিয়াতির মাধ্যমে রাবেয়া চৌধুরী মহিলা কলেজের নাম রাবেয়া চৌধুরী মহিলা ডিগ্রি কলেজ লিখে ডিগ্রি’র সাইনবোর্ড লাগিয়ে অন্তত ৩০ জন শিক্ষকের নিয়োগ বাণিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা।
কলেজে ক্যাম্পাসটিতে ডিগ্রি ও অনার্স শাখার কোন অস্তিত্ব খুঁজে না পাওয়া গেলেও খোঁজ পাওয়া গিয়েছে সেই সব নিয়োগকৃত শিক্ষকদের। এখানেই শেষ নয় কলেজটির প্রধান অফিস সহকারী নজরুল ইসলাম অবসর নেন ২০ মে ২০২৪ইং তারিখে অথচ নব সৃষ্ট পদ দেখিয়ে ২০২২ সালেই প্রধান অফিস সহকারি পদে প্রিয়ঙ্কা সরকারকে নিয়োগ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক লক্ষ টাকা।
নাম প্রকাশ না করা সত্তে কলেজটির একজন শিক্ষক জানান, আপনি অফিস সহকারী প্রিয়ংকার নিয়োগের কথা জানতে এসেছেন ওটা জেনে কি হবে এর থেকে আরও বড় বড় নিয়োগ হয়েছে ডিগ্রী শাখায়। অনার্স শাখা খোলার নামে ৩৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। কলেজটির একাডেমিক স্বীকৃতি ও পাঠদানের অনুমতি শুধু এইচএসসি। নিয়োগ দেওয়া কয়েক জন শিক্ষককে আবার কিছু কিছু টাকাও ফেরত দিয়েছে।
সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা সরকার দলীয় সাবেক এমপি হওয়ায় সরাসরি মুখ খুলতে প্রতারিত শিক্ষকরা ভয় পান। রাবেয়া চৌধুরী মহিলা কলেজটির কলেজ কোড উচ্চমাধ্যমিক :-৬৭০১।
রাবেয়া চৌধুরী মহিলা ডিগ্রী কলেজ এর অধ্যক্ষ বিবেকানন্দ মহন্ত এর কাছে নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নবশিষ্ট পদ দেখিয়ে প্রিয়ঙ্কা সরকারকে প্রধান অফিস সহকারী নিয়োগে অনিয়ম কিছুটা হয়েছে বলে স্বীকার করেন। ডিগ্রি ও অনার্সের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বাইরে আছি দুপুরে পরে কলেজে আসব সাক্ষাতে কথা হবে বলে লাইনটি কেটে দেন । কলেজে উপস্থিত হয়ে তাকে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কলেজটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা মুঠোফোনে জানান, আমরা ডিগ্রি ও অনার্স এর জন্য চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু পারি নাই । অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন আমি চলে গেছি এখন অনেকে অনেক কথা বলবে কলেজে অধ্যক্ষের কাছে সকল কাগজপত্র আছে।
রাবেয়া চৌধুরী মহিলা কলেজটির বর্তমান সভাপতি শহীদ হোসেন রুবেল জানান, দুই এক মাস হল আমি কলেজটির দায়িত্ব পেয়েছি অনিয়মের কথা শুনেছি আমি কাগজ দেখতেও চেয়েছি।প্রধান অফিস সহকারী পদে প্রিয়ঙ্কা সরকারের নিয়োগটির বিষয়ে স্বাক্ষর চেয়েছিল আমার কাছে আমি বলে দিয়েছি, ওসব অবৈধ নিয়োগ আমাকে দিয়ে স্বাক্ষর হবে না।
অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের রংপুর উপ-পরিচালক (কলেজ) মো: ওমর ফারুক শিক্ষাবার্তা’কে জানান, কলেজটির অনুমতি এইচএসসি। এর আগে একবার এই কলেজটিতে আমরা তদন্ত করেছিলাম, আবারও অনিয়মের প্রমাণ পেলে তদন্ত করা হবে। তবে কিছু বিষয়ে জানা ছিল না, বিষয়টি খতিয়ে দেখব।
জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো: শাহেদুল খবির চৌধুরী শিক্ষাবার্তা’কে জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনহীন ভাবে যদি কেউ নিয়োগ দেন তদন্তে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৪/০৬/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
