নিউজ ডেস্ক।।
মৌলভীবাজারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি দূর করতে নিয়মিত ‘রিডিং অ্যান্ড রাইটিং হসপিটাল’ পদ্ধতিতে পাঠদান চলছে। স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়নে এটি কার্যকরী উদ্যোগ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (২০ মে) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের সিংহবীজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিন ঘুরে এ পাঠদান ব্যবস্থার চিত্র দেখা যায়।
‘রিডিং অ্যান্ড রাইটিং হসপিটাল’ শিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহারে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ৯৪টি প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করা হচ্ছে। শিগগিরই জেলার অন্য উপজেলাগুলোতে এ শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
সিংহবীজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, একদল পিছিয়ে পড়া শিশু নিজেদের মতো করে আনন্দ-উৎসব, গান আর লুডু খেলার মাধ্যমে বর্ণমালা শিখছে। আর পাশে দাঁড়িয়ে সাদা এপ্রোন পরা ৬ জনের একটি শিক্ষার্থী দল তাদের পড়াশোনা শেখাচ্ছে। ব্যতিক্রমী এই পদ্ধতির পাঠদানে পুরো ক্লাস রুমজুড়ে অন্যরকম এক আবেশ ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, ৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে একেকটি দল। প্রতিটি দলে নিয়োগ দেয়া হয়েছে একজন করে প্রতীকী চিকিৎসক। আর এ চিকিৎসকই পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় সহযোগিতা করে। প্রতিদিন স্কুলের টিফিনের পর এক ঘণ্টা করে চালু থাকে – ‘রিডিং অ্যান্ড রাইটিং হসপিটাল’। অন্য সময়ে এসব শিক্ষার্থী সবার সঙ্গে ক্লাস করে। তবে রিডিং অ্যান্ড রাইটিং হসপিটালের ‘চেকিং রুমে’ সাধারণ পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে পরীক্ষা নিয়ে পরিচর্যা করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মলয় কান্তি তালুকদার বলেন, এ বিশেষ কার্যক্রমের মাধ্যমে মাত্র ৩ মাসের মধ্যে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা পড়া এবং লেখার দক্ষতা অর্জন করে লাল দল থেকে সবুজ দলে অন্তর্ভুক্ত হয়। পুরো উপজেলায় বর্তমানে লাল দলে ৩ হাজার ৫০৪ জন এবং সবুজ দলে ৮৮২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, আর তাদের কনসালট্যান্ট (শিক্ষক) রয়েছে ৯৪ জন। কনসালট্যান্টরা আবার সবুজ দলের চিকিৎসকদের সার্বিক সহযোগিতা করে।
উপজেলার একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনাকালীন ছাড়াও নানা বৈরী পরিবেশে দীর্ঘদিন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপকভাবে শিখন ঘাটতি দেখা দেয়। এতে মৌলভীবাজারের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বর্ণ পরিচয়ে ঘাটতি দেখা দেয়। সেই সঙ্গে লেখা ও পড়তে পারার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে পড়ে এ শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতির সমাধানে দেশে প্রথমবারের মতো ব্যতিক্রমধর্মী এ শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্ভাবন করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন ও শিক্ষা অফিসার জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে খলিলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল শিখন ঘাটতি পূরণের এ হসপিটাল। বর্তমানে শ্রীমঙ্গলের ১৩৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৪টিতে ‘রিডিং অ্যান্ড রাইটিং হসপিটাল’ পদ্ধতির শিক্ষাব্যবস্থা চালু রয়েছে।
সিংহবীজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কনসালট্যান্ট রুবি রায় বলেন, এ বিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে এ অভিনব শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এরইমধ্যে সবুজ দলে ৬ জন চিকিৎসক, আর বাকি ২৬ জন লাল দলের শিক্ষার্থী। এ পদ্ধতির শিক্ষাব্যবস্থা শুরু হওয়ার পর থেকে দুর্বল শিক্ষার্থীদের উন্নতি হচ্ছে। বর্তমানে সেই দুর্বল শিক্ষার্থীদের অনেকেই আবার রিডিং অ্যান্ড রাইটিং ক্লাসে ডাক্তারের ভূমিকা পালন করছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব শিশুর জন্য আলাদাভাবে দুটি ক্লাসরুম সাজিয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলার জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম বলেন, এ অভিনব পদ্ধতির শিক্ষাব্যবস্থা সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনার রয়েছে। স্মার্ট শিক্ষাব্যবস্থা চালুতে এ উদ্যোগ অত্যন্ত সুফল নিয়ে আসবে। এ ছাড়া এ জেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘রিডিং অ্যান্ড রাইটিং হসপিটাল’ ব্যবস্থা চালু করতে এরইমধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। খুব দ্রুতই সব কটি বিদ্যালয়ে এ শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।সময়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
