ময়মনসিংহঃ বিদ্যালয় ছুটির দিনে গোপনে পিকআপ ভর্তি করে প্রায় ৫ হাজার পাঠ্য বই বিক্রি করার সময় আটক করে স্থানীয় জনতা। পরে প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে বিচারের দাবিতে ‘বই চোর’ বলে স্লোগান দিয়ে বিচারের দাবি জানায় এলাকাবাসী। এ ঘটনার পাঁচদিন পরে আজ মঙ্গলবার দুপুরে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে বিচার চায় অভিভাবক, শিক্ষার্থীরা ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের আনওয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিকআপ ভর্তি করে পাঠ্য বই বিক্রি করে দিয়েছিলেন।
ওই সময় বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান করা স্থানীয় আনসার সদস্য কাজীম উদ্দিন পিকআপ আটকে দেখতে পান পিকআপে যা আছে সবই পাঠ্য বই।
কাজীম উদ্দিন জানান, বন্ধের দিনে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতি ছাড়াও দুইটি পিকআপ প্রবেশ করায় কিছু একটা হচ্ছে আঁচ করতে পেরে বিদ্যালয়ের সামনেই তিনি ওঁত পেতে অপেক্ষা করেন। এ অবস্থায় বিকেলে একটি পিকআপে কিছু ভর্তি করে উপরে ত্রিপাল দিয়ে ঢেকে বিদ্যালয় ত্যাগ করার সময় তিনি হাতে-নাতে ধরে পিকআপে কি আছে দেখতে চান। পরে ত্রিপাল খুলে দেখা যায় পুরো পিকআপে রয়েছে বিদ্যালয়ের বই।
যা ষষ্ট থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ২০২৩ সালের পাঠ্য বই। এই বই কে বিক্রি করছেন পিকআপ চালককে জিজ্ঞাস করলে তিনি প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদের নাম বলেন।
এ খবর প্রচার হলে শত শত লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে অপেক্ষমাণ আরেকটি পিকআপ আটকে দিয়ে প্রধান শিক্ষকে অবরুদ্ধ করে রেখে বই চোর বই চোর বলে মিছিল করে বিচার দাবি করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পরে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে বই গণনা করে দেখা যায় মোট বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার। এ সময় বই উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে গত পাঁচ দিনেও এ ঘটনায় কোনো আইনি ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী এ মানববন্ধন করে বিচার দাবি করেন।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৩/১০/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
