মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
তেজগাঁও, ঢাকা।
বিষয়ঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবী প্রধান শিক্ষকের ১০ম গ্রেড ও সহকারি শিক্ষকের ১১ তম গ্রেড বেতন নির্ধারণের ঘোষনা প্রদানের আবেদন।
জনাব
যথাযথ সম্মান পূর্বক নিবেদন এই যে, আমরা প্রাথমিক শিক্ষকরা দেশের শিক্ষা হ বুনিয়াদী স্তর প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে কাজ করছি। আপনি অবগত আছেন শিক্ষার ভিত যতটা মজবুত হবে, জাতি ততটা উন্নত প্রজন্ম পাবে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৩ খ্রিঃ যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা বিরাজমান থাকার পরেও প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করার মধ্য দিয়ে ৩৬০০০ হাজার বিদ্যালয় যেমন সরকারিকরণ করেছিলেন তার সাথে ঐ সকল বিদ্যালয়ে কর্মরত বিপুল সংখ্যক শিক্ষকদের জীবন জীবিকার সুযোগও তৈরি করে দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা তথা মৌলিক শিক্ষাকে সবার জন্যে সহজতর করেছিলেন ।
আপনার সরকার প্রাথমিক স্তরের শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের প্রত্যাশায় শিশুদের বিনামূল্য বই বিতরণ, উপকরণ সরবরাহ, উপবৃত্তি বিতরণ সহ স্থানভেদে খাদ্য সরবরাহ করে আসছেন দীর্ঘসময়কাল থেকেই। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মূখী করার প্রয়োজনে আকর্ষণীয় ভবন, উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা, বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান, বিদ্যালয় গমনোপযোগী রাস্তা ঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষাকে বিশ্বমানের শিক্ষায় রৃপদানের পরিকল্পনায় আপনার নির্দেশনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পুরুষ- মহিলা উভয়ের জন্যে কমপক্ষ্যে স্নাতক যোগ্যতা রেখে সরকারি প্রাথমিক নিয়োগ বিধিমালা -২০১৯ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
১৯৭৩ পরবর্তী দীর্ঘ সময়ে ব্যক্তি পর্যায়ে স্থাপিত ও বেসরকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রেজিষ্টার্ড বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ১ জানুয়ারি ২০১৩ খ্রিঃ বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার ঘোষনায় জাতীয়করণের মধ্য দিয়ে দেশের ২৬১৯৩ বিদ্যালয়সহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যাকে প্রায় ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিস্তৃত করেন। এমডিজি ও এসডিজির সফল বাস্তবায়ন ও মানসম্মত, যুগোপযোগী শিক্ষাদান নিশ্চিত করার প্রয়োজনে বিদ্যালয়গুলোতে ডিজিটাল পাঠদানের লক্ষ্যে মাল্টিমিডয়ার সরঞ্জামাদি ও কোন কোন মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিতকরণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আমরা প্রতি কর্মদিবসে কমপক্ষ্যে ৭ /৮ ঘন্টা শ্রেণি কার্য পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীর হোমভিজিট, উপবৃত্তির ( শিওর ক্যাশের) তথ্য তৈরিকরণ, কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো,জাতীয় টিকা প্রোগ্রামে সাহায্যকরণ, জাতীয় ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ, জাতীয় দিবসগুলো পালন। আন্তর্জাতিক দিবসগুলোর কর্মসূচীর বাস্তবায়ন, শিক্ষা প্রশাসন,উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসনসহ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অর্পিত দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি মানসম্মত যে শিক্ষা তা নিশ্চিতকরণে এবং আপনার সরকারের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে নির্দেশিত হয়ে আমরা নিবেদিত হয়ে কাজ করে আসছি । শিক্ষার মূল ধারা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকরা আমরা নিবেদিত হয়ে কাজ করে আসলেও বরাবরই বঞ্চিত, অবহেলিত আসছি ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা প্রাথমিক শিক্ষকরা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী যোগ্যতা নিয়ে শিক্ষকতা পেশায় পর্দাপণ করেছি কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আমাদের শিক্ষকদের ৮ম শ্রেণি পাশ গাড়ি চালক ভাইদের বেতনস্কেলে বেতন প্রদান করা হয়ে আসছে। সেই কারণে আমরা আমাদের সামাজিক মর্যাদাবোধ নিশ্চিতকরণের প্রয়োজনে ২০১৪ সাল থেকে বিভিন্নভাবে দাবি করে আসছি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের তৎকালীন মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষকের ১০ম গ্রেড এবং সহকারি শিক্ষকের ১১ তম গ্রেড প্রাপ্তির দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনায় এনে শিক্ষকদের দাবী পূরণের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন। মন্ত্রনালয়ের সচিব মহোদয়সহ দায়িত্বশীলগণেরা দীর্ঘ ৫ বছর শিক্ষকদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে তা কার্যকর না হওয়ার এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ জাকির হোসেন মহোদয় কর্তৃক দাবী পূরণের অঙ্গীকারের বিষয়টি বাস্তবায়িত না হওয়ায় আপনার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে আমরা শিক্ষকরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহন করি।
সেই আন্দোলনের কর্মসুচি হিসেবে আমরা শিক্ষকরা ২৩। অক্টোবর- ২০১৯ খ্রিঃ ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শান্তিপূর্ণ ভাবে মহাসমাবেশে অংশগ্রহনের জন্য লক্ষাধিক শিক্ষক একত্রিত হয়েছিলাম। সে দিন আমাদের গায়ে লাঠি চার্জ করেছিলো। ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আমরা হতভম্ব হয় পড়ি, আহত হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের নেতৃবৃন্দ লক্ষ শিক্ষকের চাপে আসন্ন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা-২০১৯ ও বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের ঘোষনা দিতে বাধ্য হয়।
তবে শিক্ষকের প্রাণের দাবি ছিলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার সাক্ষাত লাভ করে, আপনাকে আমাদের অবহেলার কথাটি একটু খুলে বলার সুযোগটি অর্জন করা। শিক্ষকরা আমরা আমাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সে বিষয়টি বারবার আমাদের মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী মহোদয়, সচিব মহোদয়, ডিজি মহোদয়েকে জানাতে চেয়েছি।
আমাদের অভিভাবকরা শিক্ষকদের ন্যায্য দাবীর বিষয়টির প্রতি নুন্যতম গুরুত্বারোপ না অদ্য ৫ নভেম্বর -২০১৯ খ্রিঃ তারিখ বিকল্প শিক্ষক জনবল দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা -২০১৯ এর কার্যাবলী সম্পন্নকরণের প্রস্তুুতিমূলক নির্দেশনা দিয়ে পত্র জারি করেছেন। যা প্রাথমিক শিক্ষকদের ন্যায্য দাবীকে কুঠারাঘাত করার শামিল।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা আমাদের যোগ্যতা ও অর্পিত দায়িত্বপালনের উপর নির্ভর করে যুক্তিযুক্ত অবস্থান থেকে প্রধান শিক্ষকের ১০ম গ্রেড ও সহকারি শিক্ষকের ১১তম গ্রেড বেতনস্কেল দাবি করেছি মাত্র। আপনি এ দেশের যোগ্য অভিভাবক হিসেবে দায়িত্বপালনরত। সেই নিরিখে নুন্যতম চাওয়া এ দাবিটি পূরনের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষকদের একটু সামাজিক মর্যাদা প্রপ্তির সুযোগ টি দয়া করে নিশ্চিত করে দিন।
আমরা প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ শিক্ষক আপনার দিকে তাকিয়ে রয়েছি। আপনি আমাদের অভিভাবকত্বের চাদরে আঁকড়ে ধরে স্নেহ মমতায় একটু আপনার কাছে গিয়ে আমাদের আকুতি প্রকাশ করার সুযোগ করে দিন। আমরা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণসহ আপনার সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার সকল কাজে নিজেদের বিলিয়ে দেব ইনশআল্লাহ।
মোহাম্মদ নাছিম ফারুকী
মূখপাত্র
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ
নোয়াখালী জেলা শাখা।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল