প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে প্রাথমিক শিক্ষকরা। আগামী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবি না মানলে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বর্জনসহ লাগাতার কর্মবিরতিতে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের নেতারা। এ সমস্যা সমাধানে বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন ডিপিই’র ডিজি।
প্রাথমিক শিক্ষক নেতারা বাংলাদেশ জার্নালকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ৬টায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি এক জরুরি বৈঠক আহ্বান করে শিক্ষক নেতাদের ডেকেছেন।
জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০ গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ার পর নতুন করে প্রস্তাব দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেখানে প্রধান শিক্ষকদের ১১ ও সহকারী শিক্ষকদের ১৩ গ্রেডে নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া সহকারী প্রধান শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডের প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু হয়। কিন্তু এ সময়ে সারাদেশের শিক্ষকরা এক হয়ে গ্রেড ও বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।
তাদের আন্দোলন থেকে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তার ভিত্তিতে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকদের ১০, সহকারী প্রধান শিক্ষকদের ১১ ও সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডের জন্য প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের ৮ম, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের ৯ম গ্রেডে বেতনের প্রস্তাবও পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বেতনবৈষম্য দূর করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধান শিক্ষকদের ১০ ও সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে নেয়ার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে দেয়া হলেও তা ফিরিয়ে দেয়া হয়। প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ার পর শিক্ষকরা আন্দোলনে যুক্ত হন। এ বিষয়ে আমি শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন করে প্রস্তাব পাঠানো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এদিকে, উক্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এই তথ্য জানিয়েছেন। বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার প্রসঙ্গ তোলেন। প্রধানমন্ত্রী দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চেয়েছেন বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি। জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক সচিব এর সর্বশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘আপাতত প্রধান শিক্ষকদের ১১তম আর সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড দেওয়া হবে। আমরা নতুন নিয়োগ বিধির সুপারিশ করেছি। ওই নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন হলে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারদের পদটি ৯ম গ্রেডে উন্নীত হবে। সেটা হলেই আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের স্কেল আপগ্রেড করে ১০ গ্রেড করতে পারবো।’
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ২০ শতাংশ নতুন পদ সৃষ্টির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। বৈঠকে জানানো হয়, ১৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম চলমান। নতুন জাতীয়করণ করা স্কুলে এসব শিক্ষককে পদায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
