মো: দ্বীন ইসলাম হাওলাদার।।
প্রয়াত কেবিনেট সচিব, রাষ্ট্রদূত ও মন্ত্রী এম. কেরামত আলী নারী শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ২০০০ সালে পটুয়াখালী জেলাধীন দুমকি উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে মনোরম পরিবেশে নাসিমা কেরামত আলী মহিলা কলেজ (কলেজ কোড-১১৪০; ঊওওঘ নম্বর-১০২২১৭) প্রতিষ্ঠা করেন। সূচনা লগ্ন থেকে মহা ধুমধামে চলে আসছিলো কলেজটি। ১০/১২ বৎসর পর্যন্ত অনেক শিক্ষার্থী ছিলো; ছিলো অনেক ভালো ফলাফল। এমনকি সব প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে ফলাফলে নাসিমা কেরামত আলী মহিলা কলেজ দুমকির শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিলো। বিএনপির শাসনামলে কলেজটি এমপিওর চিঠি পেলেও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী চিঠিটি বাতিল করান।
পরবর্তীতে এম. কেরামত আলী সাহেবের মৃত্যুতে কলেজটি অভিভাবক শূন্য হয়ে পরে ও দাতা শূন্য হয়ে যায়। এমপিও না থাকায় দিন দিন শিক্ষার্থী ভর্তিও কমে যাচ্ছে। অভিভাবকরাও মেয়েদেরকে ভর্তি করতে নারাজ। তাই শিক্ষক-কর্মচারীরা চাঁদা দিয়ে ট্রান্সক্রিপ্ট তোলার টাকা, রেজিষ্ট্রেশন ফি, পাবলিক পরীক্ষার ফি, বই কেনাসহ সমূদয় খরচ চালিয়ে দুরদুরান্ত থেকে ছাত্রী ভর্তি করে ২০ বৎসর ধরে কলেজটি চালিয়ে রেখেছেন। কিন্তু নাসিমা কেরামত আলী মহিলা কলেজের পরে প্রতিষ্ঠিত হয়েও দুমকিতে বেশ কয়েকটি কলেজ এমপিওভুক্ত হয়েছে। বাদ পরে যায় প্রবিন নাসিমা কেরামত আলী মহিলা কলেজ। শিক্ষক-কর্মচারীরা অনেকেই এখন বৃদ্ধ, অনেকেরই চুল পেকে গেছে। উলেখ্য অত্র কলেজটি পঞ্চম, অষ্টম, এস.এস.সি, এইচ.এস.সি ও ডিগ্রীসহ পাঁচটি পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র। এছাড়াও একই কম্পাউন্ডে রয়েছে একটি বালিকা ও একটি সহশিক্ষা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এমপিও না থাকায় উক্ত দুই প্রতিষ্ঠান থেকে নাসিমা কেরামত আলী মহিলা কলেজে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হয় না। শিক্ষক কর্মচারীরা চাঁদা দিয়ে ২০ বৎসর পর্র্যন্ত কলেজটি ধরে রেখেছেন। এখন আর পারছেন না। কলেজটি এখন চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম।
শিক্ষক কর্মচারীরা ভেবেছিলেন, গণতন্ত্রণের মানষ কন্যা, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসুরী, জননেত্রী শেখ হাসিনা কলেজটিকে এমপিওভুক্ত করবেন। এমনকি প্রাক্তন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান পটুয়াখালী-১ আসনের মাননীয় এমপি মহোদয়ও কলেজটি এমপিও ভুক্তির জন্য জোড় সুপারিশ করেছিলেন। গত ২৩/১০/২০১৯ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২,৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করলেও নারী শিক্ষা বাহন নাসিমা কেরামত আলী মহিলা কলেজটি এমপিওর মুখ দেখেনি। অথচ ভবন নেই, শিক্ষার্থী নেই, পরীক্ষার্থী নেই, ফলাফল নেই, এমনও অনেক প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম এমপিওর জন্য বরাদ্ধকৃত অর্থের প্রায় সারে ৪শ কোটি টাকা উদ্ধৃত্ত রয়েছে। আর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন এমপিও প্রতিষ্ঠান রয়েছে মাত্র ২,৫১২টি।
এমতাবস্থায় নাসিমা কেরামত আলী মহিলা কলেজসহ সকল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
