এইমাত্র পাওয়া

অধ্যক্ষ-সভাপতির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

রাজধানীর শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজের অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সভাপতি একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন।

শনিবার কলেজে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেন।

কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রহমান বলেন, একক সিদ্ধান্তে কলেজের জন্য জমি কেনার নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়া, শিক্ষকদের সঙ্গে অকারণে খারাপ আচরণ করা, বিভিন্ন অজুহাতে কলেজের ফান্ড থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া, এফডিআর করাসহ নানা অনিয়ম করছেন গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক মো. হারুনর রশীদ খান।

অন‌্যদিকে, লিখিত বক্তব্যে সভাপতি মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, জমি কেনায় কোনো অনিয়ম হয়নি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে।

তখন সাংবাদিকরা জমি কেনার বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। কিন্তু কোনো প্রশ্নের সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি তিনি।

মো. হারুনর রশীদ খান অভিযোগ করেছেন, এ পর্যন্ত নানাভাবে কলেজের ফান্ড থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা অপচয় করেছেন অধ্যক্ষ। নিজ বাড়িতে থেকেও ৪৫ হাজার টাকা বাসাভাড়া হিসেবে গ্রহণ, একটি গাড়ির জন্য দুজন চালক ও মাসিক ৩০ হাজার টাকার তেল বাবদ গ্রহণ করেন অধ‌্যক্ষ। অথচ অডিটে মাসিকের পরিবর্তে বাৎসরিক ৩০ হাজার হিসেবে গ্রহণের মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রের খরচ বাবদ ৫ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে, যেটা কলেজের অফিস গ্রহণ করেছে। সেই টাকা পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষকদের মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী বণ্টন করা হয়েছে।

তিনি সাংবাদিকদের ওই অর্থ বণ্টনের বিল প্রদর্শন করেন।

গাড়ির জ্বালানির বিষয়ে অধ‌্যক্ষ বলেন, গাড়িটি কলেজের সব কাজে ব্যবহার হয়। তাকে কেবল ওই গাড়িতে আনা-নেয়া করা হয়। এর বেশি কোনো কাজে ব্যবহার হয় না। তাই খরচটা কলেজের কাজেই হয়ে থাকে।

বাড়িভাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, জিবির (গভর্নিং বডির) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের মতোই তিনি ভাতা নেন।

এ সময় ৪০-৫০ জন শিক্ষক সভাপতির অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে কথা বলতে চাইলে সাংবাদিকদের সামনেই তাদেরকে ধমক দিয়ে চুপ করানো হয়।

সভাপতি বলেন, আমি গভর্নিং বডির সভাপতি হওয়ার পর থেকে কলেজের যেকোনো কাজে শতকরা হার (দুর্নীতি) কমেছে। এ কারণে অসাধুচক্র আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে।

কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে যে অভিযোগ দাঁড় করানো হয়েছে, সেগুলো ভিত্তিহীন। কলেজে যা কিছু হয়েছে সভাপতি সে বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত আছেন।

এদিকে, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শেখ বোরহানুদ্দীন কলেজের গভর্নিং বডির বৈঠক না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.