এইমাত্র পাওয়া

সাতক্ষীরার ৫০ শতাংশ স্কুলে নেই শহীদ মিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরাঃ আর মাত্র একদিন পর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি নিতে ওইদিন জীবন দিয়েছিলেন ছাত্ররা। সেদিনের ৫২ ভাষা আন্দোলনের ৭১ বছর পেরিয়ে গেলেও সাতক্ষীরায় ৫০ শতাংশের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গড়ে ওঠেনি কোনো শহীদ মিনার।

বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেলেও জেলার বেশির ভাগ স্কুলের শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না ভাষা শহীদদের প্রতি।

পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে এ দেশের বাঙালিরা। তাই ভাষাসৈনিকদের বিনম্র শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করার জন্য সরকারিভাবে প্রতিটি জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার থাকার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু নির্দেশনা থাকলেও সাতক্ষীরায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ৫০ ভাগেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই গড়ে ওঠেনি কোনো স্থায়ী শহীদ মিনার।

বাটকেখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হবে। তবে এ স্কুলে কোনো শহীদ মিনার নেই। এক কিলোমিটার দূরে শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্কে গিয়ে ফুল দিতে খুব অসুবিধা হয়। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে স্কুলে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা দরকার।

কুখরালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আরা বলেন, শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে এ স্কুলটি। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস, অথচ আজও এ স্কুলে কোনো শহীদ মিনার গড়ে ওঠেনি। স্থানীয়ভাবে শিক্ষকদের সহযোগিতায় অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার করে দিবসটি পালন করা হবে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এখানে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

একই কথা বলেছেন, পাবলিক স্কুল, দা পোল স্টার স্কলি, কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শহীদ মিনার না থাকলেও অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে ভাষা শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয় বলে জানায় সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকরা।

শিক্ষার্থীরা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চায়। তাই সাতক্ষীরা জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপনের দাবি শিক্ষার্থীদের।

এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমি জানান, এক হাজার ৯৫টি প্রাইমারি স্কুলের মধ্যে শহীদ মিনার রয়েছে মাত্র ১৭২টি। এ ছাড়া জেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উপপরিচালক অজিত কুমার সরকার জানান, ৬৩৯টি মাদ্রাসা ও হাইস্কুলের মধ্যে ২৯৩টিতে শহীদ মিনার নেই।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজ উদ্যোগে শহীদ মিনার গড়ে তোলা হচ্ছে। আর নতুন করে তৈরি স্কুলে ভবনের সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনার করা হচ্ছে। তা ছাড়া আগামীতে জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের কর্মপরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২০/০২/২৩   


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.