এইমাত্র পাওয়া

অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতায় বেতন-ভাতা বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধাঃ জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধর্মপুর আব্দুল জব্বার ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো. ছামিউল ইসলাম এর স্বেচ্ছাচারিতায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ওই কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার ধর্মপুর আব্দুল জব্বার ডিগ্রী কলেজের অর্থনীতির এক শিক্ষককের ৭ বছর ও অন্য শিক্ষক- কর্মচারীদের ৪ মাস ধরে বেতন-ভাতা আটকে রেখেছেন অধ্যক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধর্মপুর আব্দুল জব্বার ডিগ্রী কলেজে ২০১৫ সালে ছামিউল ইসলাম অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরে ২০১৮ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত করেন। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় তার বেতন ও ভাতা স্থগিত হয়। এমনকি বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। পরে অপকৌশলে নিকটাত্মীয়দের গভর্নিং বডিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। আপন চাচা ও বড় ভাইকে সভাপতি বানিয়ে এখনো ছামিউল ইসলাম অধ্যক্ষ পদে বহাল তবিয়তে আছেন।

অধ্যক্ষ ছামিউল ইসলাম তার বড় ভাই হাবিবুর রহমানকে পরপর দুই বার এডহক কমিটির সভাপতি বানিয়ে অভ্যন্তরীণ আয় তছরুপ, নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিধিবহির্ভূতভাবে শিক্ষক এমপিওভুক্তকরণ, বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে সিনিয়র শিক্ষকদের বঞ্চিত করে জুনিয়র শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রদান করেছেম। এনিয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করা হয়। ইতোমধ্যে সেই অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানা যায়।

এদিকে, গত ৭ বছর ধরে হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে কলেজের অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক এহেতেশামুল হক ডাকুয়ার বেতন-ভাতা বন্ধ রেখেছে অধ্যক্ষ ছামিউল ইসলাম। দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা না পেয়ে স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন প্রভাষক এহেতেশামুল হক।

এ বিষয়ে প্রভাষক এহেতেশামুল হক ডাকুয়া বলেন, ‘জাতীয় বিশ্বিবিদ্যালয়ের নির্দেশনা ও মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী আমার বেতন-ভাতা প্রদানের আইনগত কোন বাধা নেই। তবুও অধ্যক্ষ ছামিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক আমার বেতন-ভাতা বন্ধ রেখেছে। কর্তৃপক্ষের কাছে বেতন-ভাতা প্রদানের জোর দাবী জানাচ্ছি।’

কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের প্রভাষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘২৪ বছর হলো অত্র কলেজে চাকুরী করছি। অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতায় আমি এখনো কোন পদোন্নতি পাইনি।’

ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সুহেল আলম বলেন, ‘আমার ছাত্র আমার কর্মস্থলেই সহকারি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছে। আমি অধ্যক্ষকে সন্তুষ্টি না করতে পারায় আমার পদোন্নতি হয়নি।’

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ ছামিউল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান করতে স্বাক্ষরের জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছি। স্বাক্ষর না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজের সভাপতি মোহাম্মদ-আল-মারুফ বলেন, ‘অধ্যক্ষ কলেজের অভ্যন্তরে গ্রুপিং করে নানাবিধ জটিলতা সৃষ্টি করেছেন। তিনি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য কাগজপত্র দাখিল করছেন না।’

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৯/০২/২৩   


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.