চবিতে নারী সাংবাদিককে ছাত্রলীগের হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চবিঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলা ইনস্টিটিউটের চলমান সংস্কার এবং চারুকলাকে মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এ সময় ভিডিও ফুটেজ নিতে চাইলে কর্মরত এক নারী সাংবাদিককেও হেনস্তা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী মারজান আক্তার দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য। তিনি চবির যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী।

অভিযুক্তরা হলেন-বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ভিক্স গ্রুপের অনুসারী আইআর ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী মারুফ ইসলাম, সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান, বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী তৌহিদুল হক ফাহাদ, একই সেশনের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শহীদুর রহমান স্বপনসহ আরও ১০-১৫ জন ছাত্রলীগ কর্মী।

ভুক্তভোগী মারজান আক্তার বলেন, ছাত্রলীগের অনুসারীরা যখন চারুকলার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাধা দিচ্ছিলেন, তখন পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে আমি ফুটেজ নিচ্ছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগের ভিএক্স গ্রুপের অনুসারীরা এসে আমাকে আটকায় এবং ভিডিও ডিলিট করার জন্য চাপ দিতে থাকে। আমি ভিডিও ডিলিট করবো না বলায় তারা আমাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। এ সময় তারা বলে ‘তোর নিরাপত্তা কে দেবে আমরা দেখব’। পরে আমি সেখান থেকে আসার সময় তারা আমার মোবাইল এবং ব্যাগ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তারা চারদিক থেকে ঘিরে ধরে আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক গ্রুপ ‘বাংলার মুখ’ এবং ‘ভিএক্স’ এর নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের বাধা দেন। এছাড়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যানার, ফেস্টুন কেড়ে নেওয়া হয়। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আরটিভির ফটো সাংবাদিক এমরাউল কায়েস মিঠু ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার হন।

অভিযুক্ত শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ভিএক্স গ্রুপের নেতা মারুফ আহমেদ বলেন, চারুকলার আন্দোলনে আমাদের কিছু ছেলে অংশগ্রহণ করেছিল। আমরা তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। আমাদের ছেলেদের বাইরে অন্য কাউকে বাধা দিইনি।

সাংবাদিককে হেনস্তার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সাংবাদিককে প্রথমে সাধারণ শিক্ষার্থী মনে করেছিলাম। তাই ভিডিও ডিলিট করতে বলি। কিন্তু তিনি যখন সাংবাদিক পরিচয় দিয়েছেন তখন আমরা আর কিছু বলিনি।

এ বিষয়ে প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, চারুকলার শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থানের বিষয়ে আগে থেকে আমাদেরকে কিছু জানায়নি। তাই আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। ঘটনাস্থলে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা না থাকায় এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে আমরা আগেও ব্যবস্থা নিয়েছি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কর্তৃক দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মারজান আক্তারকে হেনস্তার প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস)। চবিসাসের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আজহার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আজ বৃহস্পতিবার প্রক্টর বরাবর অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়। এতে দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৯/০২/২৩    


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.