website page counter রাষ্ট্র গণতন্ত্র ও মানবাধিকার – শিক্ষাবার্তা

বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬

রাষ্ট্র গণতন্ত্র ও মানবাধিকার

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা।।

সাম্প্রতিককালে রাষ্ট্রচিন্তায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ফলে রাষ্ট্র বিষয়ক মৌলিক ধারণাগুলোর ব্যাখ্যায়ও অভিনবত্ব এসেছে। ফলে রাষ্ট্রের পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘রাজনৈতিক ব্যবস্থা’ শব্দটি। আর রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংজ্ঞা দিয়ে ডেভিড ইস্টন বলেছেন, ‘রাজনৈতিক ব্যবস্থার হলো লক্ষ্য স্থির, নিজেকে রূপান্তরিত করা এবং পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য বিধানের এক সৃজনশীল ব্যবস্থা।’ (A goal setting, self-transforming and creatively adaptive system)। এ ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো ‘সমাজে উপযোগের প্রভুত্বব্যঞ্জক বরাদ্দ’ (The authoritative allocation of values).

গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড (এ অ অষসড়হফ) রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংজ্ঞা দিয়েছেন ভিন্ন আঙ্গিকে। তার মতে, ‘রাজনৈতিক ব্যবস্থা হলো এমন একটি পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, যা প্রতিটি স্বাধীন সমাজে বিদ্যমান; আর যেখানে বৈধ উপায়ে কমবেশি বল প্রয়োগ করে বা বল প্রয়োগের ভয় দেখিয়ে অভ্যন্তরীণ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সংহতি সাধন ও ন্যায্যতায় অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়াদি নিষ্পন্ন করা হয়।’ মূলত রাজনৈতিক ব্যবস্থা হলো, একটি বৈধ, শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও রূপান্তর সাধনকারী ব্যবস্থা। এক রূঢ় বাস্তবতায় আমাদের দেশে রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে আত্মস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতালিপ্সা। অনিয়মই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রচলিত রাজনীতি ও রাষ্ট্র গণমানুষের জন্য কল্যাণকর হয়ে ওঠেনি।

নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের হলেও রাষ্ট্র সে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে বা ক্ষেত্রবিশেষে উদাসীন থাকছে। প্রায় ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক শক্তিগুলো জনস্বার্থের পরিবর্তে অনৈতিকভাবে আত্মস্বার্থ ও ক্ষমতা চর্চার অশুভ প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিচ্যুতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি চোখে পড়ার মতো। জনজীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের হলেও জনগণ সে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতিকে যেভাবে প্রস্তুত করা দরকার ছিল, সেখানে ব্যর্থতার ছাপ সুস্পষ্ট।

রাষ্ট্রের পৌনঃপুনিক ব্যর্থতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিচ্যুতি ও সুশাসনের অনুপস্থিতি আমাদের জাতীয় বিপর্যয়ের জন্য প্রধানত দায়ী বলে মনে করা হয়। ফলে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডও শুধু ক্রমবর্ধমানই নয়, বরং লাগামহীন। ঘটনার পর নিহতদের কুখ্যাত, ভয়ঙ্কর অপরাধী কিংবা ডাকাত দলের সরদার তকমা দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, বহু কিছুই ঘটছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়। অথচ আমাদের দেশের সংবিধানে গণতন্ত্র, মৌলিক মানবাধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতা, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, The Republic shall be a democracy in which fundamental human rights and freedoms and respect for the dignity and worth of the human person shall be guaranteed.
.

সংবিধান অনুসরণ করে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাসহ নাগরিকের সব অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকার সে দায়িত্ব পালনে কতখানি সক্ষম বা আন্তরিক তা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। সারা দেশেই মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, গুম, অপহরণ ও গুপ্তহত্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বা সরকারের ভূমিকা নিয়ে আশা করার কোনো সুযোগ নেই, বরং ক্রমেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মোট ৪৬৬ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ২৯২ জন প্রাণ হারিয়েছেন মাদকবিরোধী অভিযানের সময়। বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর পক্ষে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০১৭ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন ১৬২ জন। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ২৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটি আরো বলেছে, ২০১৮ সালে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৭৩২টি, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬৩ জনকে ও সাতজন ধর্ষিতা আত্মহত্যা করেছেন। এক হাজার ১১টি শিশু নিপীড়নের শিকার হয়েছে। নিপীড়নের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে ২৮৩টি আর আত্মহত্যা করেছে ১০৮ শিশু। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ৬৭ জন। নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৩৪ জন।

এসব অভিযোগ আরো জোরালো ভিত্তি পেয়েছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরের বার্ষিক প্রতিবেদনে। এবার ৫ জুন প্রকাশিত দেশটির বার্ষিক মানবাধিকার রিপোর্ট গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে ওঠা সহিংসতা ও কারচুপির অভিযোগকে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ বলেছে এবং মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনে বাংলাদেশের উদারনৈতিক অবস্থানের প্রশংসা করা হলেও গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়ে গেছে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্কোচন ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়। ‘মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিবেদন ২০১৮’ শীর্ষক এ প্রতিবেদন সূচনাতেই বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও গণতন্ত্রের সুরক্ষা দুর্বল হয়েছে। গুম, ধর্মীয় স্বাধীনতা বা বিশ্বাস এবং আধুনিক দাস প্রথার মতো বিষয় যুক্তরাজ্য খুবই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছে।’

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব মহল থেকেই গত সংসদ নির্বাচন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ নির্বাচনকে প্রহসন বলে অভিহিত করেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ (টিআইবি) ৫০টি আসনে জরিপ করে নির্বাচনকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে অভিহিত করেছে। টিআইবি ৪৭টি সুনির্দিষ্ট অনিয়ম চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল দেয়া, প্রতিপক্ষের এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ না দেয়া, অনেক ভোটারের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারা, বুথ দখল করে প্রকাশ্যে সিল মারা, জোর করে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা, ভোট শুরুর আগে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা, ভোট শেষ হওয়ার আগে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া প্রভৃতি, গণমাধ্যমের জন্য ‘অভূতপূর্ব’ কঠোর নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও করা হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে, যা আমাদের দেশের ভঙ্গুর গণতন্ত্রের দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে গুম ও অপহরণের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহল থেকে প্রশ্ন তোলার পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। গুম বা অপহরণ উভয়টিই গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। সরকারপক্ষে অবশ্য এসব ঘটনাকে ‘স্বেচ্ছায় নিখোঁজ’ বলে দাবি করা হয়েছে বা হচ্ছে। কিন্তু কেউ স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হলে তাদেরকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। ভিকটিমের পরিবারকে তার স্বজনের অবস্থানের বিষয়ে জানানোর দায়িত্ব রাষ্ট্র কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের নির্লিপ্ততা জনমনের যৌক্তিক সন্দেহ-সংশয়কে আরো জোরালো করেছে।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আর তা করতে হবে সম্পূর্ণ আইনানুগ ও সাংবিধানিক পন্থায়। কিন্তু এভাবে হত্যা, গুম ও অপহরণ করে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সমাধান করা সম্ভব নয়। দেশের বিচারব্যবস্থার ফাঁকফোকর দিয়ে সন্ত্রাসী বের হয়ে যাবে, এই ধারণার বশবর্তী হয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যেন মহোৎসব চলছে। কিন্তু এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, অপরাধী যত ভয়ঙ্করই হোক, আইনি আশ্রয় নেয়া এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার সবারই আছে। এ অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদানের দায়িত্বও রাষ্ট্রের। বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী না করে এভাবে মানুষ হত্যার মহড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, বরং তা খোদ রাষ্ট্রের কার্যকারিতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

রাষ্ট্র বা ক্ষমতার প্রয়োজনে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে মনে করছেন আত্মসচেতন মানুষ। কোনো রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের ঘাটতি থাকলে এটা হয়ে থাকে বলেই মনে করে অভিজ্ঞ মহল। শুধু নির্বাচন থাকলেই যে দেশে গণতন্ত্র বহাল থাকে, তা নয়। এর প্রমাণ গত বছরের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন। মূলত রাষ্ট্র উদারনৈতিক জনকল্যাণমূলক হলেই তাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা যেতে পারে। তা না হওয়ায় রাষ্ট্র বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকে বলেই মনে করা হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব হবে দীর্ঘমেয়াদি, যা কারো জন্যই কল্যাণকর হবে না।

মানবাধিকার লঙ্ঘন, হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, গুম, অপহরণ ও গুপ্তহত্যা বন্ধ করতে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে উদাসীনতার অভিযোগও বেশ জোরালো। এসব বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও কম নয়। অথচ সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নাগরিকের নিরাপত্তাসহ সব অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। সরকার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে; সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করতে পারছে না। জাতিসঙ্ঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেকেরই জীবনধারণ, স্বাধীনতা ও ব্যক্তি নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে।’ অনুচ্ছেদ ৭-এ বলা হয়েছে, ‘আইনের কাছে সবারই সমান এবং কোনোরূপ বৈষম্য ব্যতিরেকে সবারই আইনের দ্বারা সমভাবে রক্ষিত হওয়ার অধিকার রয়েছে। এই ঘোষণাপত্রের লঙ্ঘনজনিত বৈষম্য বা এরূপ বৈষম্যের উসকানির বিরুদ্ধে সমভাবে রক্ষিত হওয়ার অধিকার সবারই আছে।’

যেকোনো রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত। বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সাময়িক সুবিধা অর্জন করা গেলেও তা কোনো সুদূরপ্রসারী ফল বয়ে আনে না, বরং প্রতিহিংসা প্রতিহিংসারই জন্ম দেয়। তাই যেকোনো সমস্যা সমাধানে সরকারকে সত্যিকার অর্থে বুদ্ধিদীপ্ত ও দূরদর্শী হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। জনগণ সরকারের কাছে এসব বিষয়ে দায়িত্ববোধ আশা করছে।

প্রত্যেক মানুষের রয়েছে স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা, ভোট প্রদান, চিন্তার ও বাক-স্বাধীনতার অধিকার। সবাই চায় সামাজিক নিরাপত্তা, বিশ্রাম, বিনোদন ও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার; নাগরিক হিসেবে কর্মসৃষ্টি, কর্মের অনুকূল পরিবেশ ও উপযুক্ত পারিশ্রমিক লাভের অধিকার। ভোটের অধিকার, রাজনীতি করার অধিকার, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অধিকার প্রভৃতি। নানাবিধ মৌলিক অধিকারই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য মানবাধিকার। রাষ্ট্র থাকলে নাগরিক থাকবে, রাজনীতি ও রাজনীতিক থাকবে, সরকার গঠনের পদ্ধতি থাকবে, মতবাদ থাকবে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে; রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থা সম্পর্কিত বিষয়ে জনসাধারণের অংশগ্রহণ থাকবে। মানুষ স্বাধীনভাবে যার যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এসব করতে পারার নামই গণতন্ত্র।

আধুনিক রাষ্ট্রের প্রাণশক্তি হচ্ছে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র। এর প্রতি উদাসীন হওয়ার কারণে সোভিয়েত রাশিয়া ভেঙে গেছে। একই কারণে বহু নগর রাষ্ট্র ব্রিটিশদের হাতছাড়া হয়েছে। মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের মর্যাদা সমুন্নত না থাকায় বিশ্বপরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল ভূখণ্ড মানবাধিকারহীন হিংসার আগুনে পুড়ে ছাই হতে চলেছে। এ ছাড়াও তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো গণতন্ত্রহীন স্বৈরশাসনের কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসবাদের চক্রান্তে জড়িয়ে যাচ্ছে, যা বিশ্বপরিস্থিতিকে ক্রমেই অশান্ত ও অস্থির করে তুলছে।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে নাগরিকদের সব ধরনের অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা। মানবাধিকার ও গণতন্ত্র একে অপরের পরিপূরক। কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় গণতন্ত্র হরণ ও গণমানুষের অধিকার ক্ষুণœ করার অভিযোগ খুব জোরালো। তাই রাষ্ট্রীয় কাঠামো এখনো বেশ ভঙ্গুর। গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধও বিকশিত হয়নি। মানবাধিকারের বিষয়টি এখনো প্রশ্নবিদ্ধ । অর্থাৎ রাষ্ট্র পুরোপুরি সফল হয়ে ওঠেনি।

smmjoy@gmail.com

এই বিভাগের আরও খবর