এইমাত্র পাওয়া

মানুষের জন্য শীতবস্ত্র নিয়ে ছুটছেন পুলিশ সুপার

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

তীব্র শীতে তাপমাত্রা কমে কুড়িগ্রামের প্রান্তিক মানুষের অবস্থা জবুথবু। স্থানীয়দের দাবি, সরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে শীতে বয়োবৃদ্ধদের অবস্থা মানবেতর। এমন পরিস্থিতিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের শীতার্তদের জন্য শীতবস্ত্র নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন বিদায়ী পুলিশ সুপার (এসপি) মহিবুল ইসলাম খান।

এরই ধারবাহিকতায় আজ উলিপুরে ৩০০ শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন এসপি। ২৫ ডিসেম্বর, শুক্রবার বিকেলে মতিঝিল মডেল হাই স্কুল-১৯৯৪ ব্যাচের উদ্যোগে উলিপুর থানা চত্বরে উপজেলার উমানন্দ কুরআনের আলো হাফেজি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ ৩০০ জন শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেন পুলিশ সুপার।

কম্বল হাতে পেয়ে হাসিমুখে ছকিনা, সুরুজভান, কছভান, হাজেরা, আমিনাসহ অনেকেই বলেন, এতদিন ঠান্ডাত আছনু বাহে, হামার এতি খুব জার (ঠান্ডা), এসপি হামাক কম্বল দিছে, এলা হামরা গরমোত থাইকমো, এসপি ভাল মানুষ, হামরা দোয়া করি আল্লাহ্ তার ভাল করবে।

কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল মাহমুদ হাসান, থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবির, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমীন, মতিঝিল মডেল হাই স্কুল-১৯৯৪ ব্যাচের রিয়াজ আহমেদ, তারেক, শামীম, জিয়া, তপু, খাইরুল প্রমুখ।

এছাড়া বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকালে জেলা শহরের হিজরা জনগোষ্ঠীর (তৃতীয় লিঙ্গের) শতাধিক সদস্যের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করেছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। বিকালে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে জেলার নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী উপজেলায় মাদরাসা ছাত্র ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে আরো দুই শতাধিক শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আমার কিছু বন্ধুদের মাধ্যমে জেলার শীতার্তদের সাহায্যার্থে কয়েক হাজার শীতবস্ত্র সংগ্রহ করেছি। জেলা থেকে চলে যাওয়ার আগে আমি নিজ উদ্যোগে এসব শীতবস্ত্র সাধারণ মানুষের মাছে বিতরণ করবো।’

প্রসঙ্গত, এসপি মহিবুল ইসলাম খান কুড়িগ্রাম থেকে বদলির আদেশ পেয়েছেন। তিনি আগামী ২৯ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম ত্যাগ করবেন। তার পরবর্তী কর্মস্থল পাবনা। মহিবুল ইসলাম খান ২০১৯ সালের ২৩ জুন কুড়িগ্রামে যোগদান করেন। যোগদানের পরই পুলিশের কনস্টেবল পদে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জেলাবাসীর কাছে প্রশংসিত হন। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি করোনা মহামারীতে কর্মহীন হয়ে পড়া হাজারও মানুষের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো, শীতার্ত ও বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে জেলাবাসীর আকুন্ঠ কৃতজ্ঞতা পে‌য়ে‌ছেন এই কর্মকর্তা। সরকারি নিয়মে বদলি হয়ে জেলা ত্যাগের আদেশ পেলেও জেলা ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তেও মানবিক সহায়তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন এই কর্মকর্তা।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.