এইমাত্র পাওয়া

৪৫ রাজ্যেই ভোট চুরির প্রমাণ মেলেনি

অনলাইন ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জালিয়াতি ও ভোট চুরির অভিযোগ এনেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ৪৫টি অঙ্গরাজ্যে যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, তার সেসব অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি। মার্কিন অঙ্গরাজ্য সরকারের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো জালিয়াতি ও কারচুপির প্রমাণ পায়নি তারা। খবর নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন ও বিবিসির।

প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তারা ৪৫টি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সেখানে বড় ধরনের কোনো জালিয়াতির কথা জানাতে পারেনি রাজ্যগুলো।

অঙ্গরাজ্য সরকারের নির্বাচন অফিস স্থানীয়ভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে। স্বাধীনভাবে এসব নির্বাচনী অফিস কাজ করে থাকে। নির্বাচনী ফল প্রকাশের দায়িত্বে থাকেন অঙ্গরাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেট। নির্বাচনের রাত থেকেই পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ভোট গণনা নিয়ে অভিযোগ করে আসছেন ট্রাম্প। অঙ্গরাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল জোস শাপিরো জানান, পেনসিলভানিয়ায় নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের একাধিক মামলা এরই মধ্যে বাতিল হয়ে গেছে। এসব মামলার কোনো ভিত্তি নেই।

মিশিগানের সেক্রেটারি অব স্টেট জোসলিন বেনসন জানান, ওই অঙ্গরাজ্যের অ্যাবসেন্টি ভোট ও ডাকযোগে পাওয়া ভোটের গণনা নিয়ে মামলা করার কথা বলেছে ট্রাম্পের প্রচার শিবির। তবে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো জালিয়াতি, কারচুপির অভিযোগ বা প্রমাণ তাদের কাছে নেই। একইভাবে কানসাস অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সেক্রেটারি অব স্টেট স্কট সোয়াব জানান, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কোনো ভোট জালিয়াতি, কারচুপি বা অনিয়ম তিনি প্রত্যক্ষ করেননি।

মিনেসোটার সেক্রেটারি অব স্টেট স্টিভেন সাইমন জানিয়েছেন, একজন মানুষও ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো বিতর্কে যাননি। তার মতে, কোথাও কোনো জালিয়াতি হয়নি।

৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী অফিস থেকে সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জো বাইডেনকে জয়ী হিসেবে ঘোষণা করে। বাইডেন এ পর্যন্ত ২৯০ ইলেক্টোরাল ভোট পেয়েছেন। আর ট্রাম্প পেয়েছেন ২১৪ ভোট। জয়ী হতে ২৭০ ভোট পেতে হয় কোনো প্রার্থীকে। এদিকে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেন আন্তর্জাতিক নেতাদের অভিনন্দনও পেয়েছেন। কিন্তু ফল মেনে নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি ট্রাম্প। উল্টো পরাজয় অস্বীকার করে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা দেন তিনি।

জর্জিয়ায় ভোট পুনঃগণনার ঘোষণা : বাইডেন ও ট্রাম্পের মধ্যে ভোটের ব্যবধান খুব কম হওয়ায় পুনঃগণনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জর্জিয়া। অঙ্গরাজ্যের ‘সেক্রেটারি অব স্টেট’ ব্রাড রাফেন্সপারগার বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, অঙ্কের হিসাবে ভোটের ব্যবধান খুব কম হওয়ায় আমাদের সব ভোট পুনঃগণনা করতে হচ্ছে। এ সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই আমরা ভোট পুনঃগণনা কাজ শুরু করতে চাই।

জর্জিয়ায় বাইডেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের থেকে মাত্র ১৪ হাজার ভোট বেশি পেয়েছেন বলে জানান রাফেন্সপারগার।

তিনি বলেন, ‘ভাট পুনঃগণনার পর যে ফল পাওয়া যাবে আমরা সেটাই সার্টিফাই করব, সেটাই চূড়ান্ত গণনা হবে। এটা নিরীক্ষণ, পুনর্বিবেচনা এবং এককথায় সব ভোট পুনঃগণনা।’ অন্যান্য রাজ্যের মতো জর্জিয়াতেও একই প্রক্রিয়ায় ভোট হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিন্তু অন্যান্য রাজ্যে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান এত কম হয়নি। জর্জিয়ায় ১৬টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট রয়েছে।

আলাস্কার তিন ভোট ট্রাম্পের : আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছেন ট্রাম্প। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার এক সপ্তাহ পর আলাস্কায় ফল ঘোষণা করা হলো। এ রাজ্যে ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা তিনটি। ৭৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ট্রাম্প পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬২৪ ভোট (৫৬ দশমিক ৯ শতাংশ)। আর ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৮০ ভোট (৩৯ দশমিক ১ শতাংশ)। খবর এপি। এ রাজ্যে বিজয়ের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা দাঁড়াল ২১৭টি। যদিও প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগেই জয় নিশ্চিত করেছেন জো বাইডেন।

গত ৩ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার চার দিন পর শনিবার জো বাইডেন ২৯০টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট নিশ্চিত করতে সক্ষম হন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হওয়া অনেকটাই নিশ্চিত বাইডেনের। তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো পরাজয় স্বীকার করেননি।
শিক্ষাবার্তা/ বিআ


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.