এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ জরুরী

মুহাম্মদ জসিম উদদীন।।

বাংলা পড়ানোর জন্য বাংলা শিক্ষক,ইংরেজি পড়ানোর জন্য ইংরেজি শিক্ষক,আর ধর্ম পড়ানোর জন্য রয়েছে ধর্ম শিক্ষক। এভাবে প্রতিটি বিষয় পড়ানোর জন্য বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক আছেন। কিন্তু স্বাস্থ্য বিষয়ক জ্ঞান দেয়ার জন্য কোন শিক্ষক নাই।
স্বাস্থ্য ই সম্পদ। স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল। বেঁচে থাকার জন্য সুস্থ শরীর যে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমারা প্রত্যেকেই জানি। কয়েক মাস আগে বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের প্যারেড পিটি পরিচালনা করছিলাম। মাঠে পিটি চলাকালীন একজন ছাত্রী মাটিতে পড়ে গেলো। সহপাঠীরা ধরাধরি করে একটি রুমে নিয়ে বেঞ্চের উপর শুইয়ে দিলো। যথাসম্ভব দ্রুত পিটি শেষ করে ছাত্রীটির খোঁজ নিতে গেলাম। গিয়ে দেখি মেয়েটি দাঁতে খিল মেরে আছে। কেউ মাথায় পানি দিচ্ছে, কেউ পানি খাওয়ানোর জন্য জোর করে মুখ খোলার চেষ্টা করছে, কেউ কান্না করছে।
একজন হুজুর এসে পানি পড়ে ওর গায়ে ছিটিয়ে দিলো। কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। কেউ ভাবছে জ্বীন পরীর আছড় হতে পারে। তাই অধিকতর পরহেজগার হুজুরকে ডেকে আনা হলো। তিনি অজু করে দু রাকাত নামাজ পড়ে ঝাড় ফুক দিলেন। পানি পড়া দিলেন।
টোটাল ব্যাপারটা নিজ চোখে দেখলাম। আমিও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলাম। খুব অসহায় মনে হচ্ছিলো নিজেদেরকে। মেয়ে মানুষ কি না কি ব্যাপার। ভেবে পাচ্ছিলাম না। অবশেষে অভিভাবককে ফোন করে আনা হলো। জানা গেলো, মেয়ে সকালে কিছু খেয়ে আসেনি। তাছাড়া বেশ কিছু দিন ধরে খাবার দাবারে অনিয়ম করে আসছে। শারীরিক দূর্বলতায় এমন হয়েছে।
প্রতিটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দৈনিক শত শত ছাত্র/ছাত্রী ক্লাস করে। প্রায় প্রতি দিনই শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারনে কিছু ছত্র/ছাত্রীকে ছুটি দিতে হয়। অথচ এরা সকলেই সুস্থ অবস্থায় বাড়ি থেকে আসছে। প্রতিষ্ঠানে এসে অসুস্থ হয়েছে।প্রাথমিক কিছু চিকিৎসা দিলেই এদেরকে ক্লাশে রাখা সম্ভ। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞানের অভাব ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর অভাবে ছত্র ছাত্রীদেরকে ক্লাসে রাখা যাচ্ছে না।
তাছাড়া বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে প্রত্যেক ছাত্র ছাত্রীকে চিকিৎসা বিষয়ক প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে। অথচ আমামাদের কারিকুলামে এ বিষয়ক তেমন কোনো আলোচনা নাই।
তাই ছাত্র ছাত্রীদেরকে স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রাথমিক জ্ঞান ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার জন্য প্রতিটা প্রতিষ্ঠানেে একজন করে স্বাস্থ্য কর্মী/ প্রাথমিক চিকিৎসক নিয়োগ জরুরী হয়ে পড়েছে । বিষয়টি সম্পর্কে উর্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্টিআকর্ষণ করছি।

লেখকঃ
জিরাইল আজিজিয়া ফাজিল মাদরাসা
বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.