নিজস্ব প্রতিবেদক।।
এবার পবিত্র রমজানের প্রায় পুরোটা সময় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রেখে বার্ষিক ছুটির তালিকা করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। তারা রমজান মাসে বিদ্যালয় বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান। পরিষদের চারজন আহ্বায়ক এতে সই করেছেন। তারা হলেন মো. আবুল কাসেম, মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ, মু. মাহবুবর রহমান ও খায়রুন নাহার লিপি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব রওশন আরা পলির সই করা একটি বাৎসরিক ছুটির তালিকা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। দাপ্তরিকভাবে এ ছুটির তালিকার সত্যতা কতটুকু তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। যদি সত্যতা থাকে তাহলে, প্রকাশিত ছুটির তালিকায় কিছু অসঙ্গতি দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যা কর্তৃপক্ষের অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি বা প্রিন্টিং জটিলতার জন্য হতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।
এতে আরও বলা হয়, বিগত বছরগুলোতে ছুটির মধ্যে শুক্র ও শনিবারকে ০০ দিন হিসেবে গণনা করা হতো। বর্তমান ছুটির তালিকাতেও ২, ৬, ১৩, ২০, ২২, ২৩ নম্বর ক্রমিকের ছুটি শুক্র ও শনিবার হওয়ায় ০০ দিন গণনা করা হয়েছে। কিন্তু ৮ নম্বর ক্রমিকের ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ছুটিতে দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবারকে ছুটির দিন হিসেবে গণনা করা হয়েছে এবং ছুটি তালিকার ২৮ নম্বর ক্রমিকে ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর ১০ দিনের ছুটির মধ্যে শুক্র ও শনিবার গণনা করা হয়েছে। ৮ নম্বর ক্রমিকে ৪ দিন ও ২৮ নম্বর ক্রমিকে ২ দিনসহ মোট ৬ দিন শুক্র-শনিবারকে ছুটির দিন হিসেবে গণনা করা হয়েছে। এমতাবস্থায় শিক্ষক ও সচেতন অভিভাবক মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা অনভিপ্রেত।
রোজায় বিদ্যালয় বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে বলা হয়, রমজান মাস মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের একটি পবিত্র মাস। এ পবিত্র মাসে সিয়াম পালন করে শ্রেণি পাঠদান অত্যন্ত দূরূহ একটি কাজ। বাংলাদেশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ এবং ধর্মের প্রতি মানুষের আবেগ প্রচণ্ড। রমজান মাসে প্রাথমিকের অনেক ছাত্র-ছাত্রী রোজা পালন করে শ্রেণি পাঠদানে অংশগ্রহণ করাও কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কষ্টসাধ্য হবে বলে আমরা মনে করি। তাছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধিকাংশ নারী শিক্ষক হওয়ার কারণে স্কুল ছুটির পর বাসায় গিয়ে ইফতারির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তাই ছুটির তালিকাটি সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
