রাকসু নির্বাচন নিয়ে সংশয়

রাজশাহীঃ মনোনয়নপত্র বিতরণের মাত্র তিন দিন আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. আমজাদ হোসেন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনারের আকস্মিক এ বদলিতে নির্ধারিত সময়ে রাকসু নির্বাচন হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ক্যাম্পাসের ছাত্রনেতারা।

গত বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সাংবিধানিক এই পদে নিয়োগের ফলে ইতোমধ্যে তিনি আলোচনার মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক আমজাদ হোসেন।

আগামী ২৪ আগস্ট থেকে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরুর কথা ছিল। গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে ঘটনাটিকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন ক্যাম্পাসের ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা।

ছাত্রনেতারা বলছেন, রাকসু নিয়ে প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বারবার পরিবর্তন হচ্ছে। পোষ্য কোটা পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রশাসনকে সময় বেঁধে দিয়েছেন। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বিতরণ হয়নি। এখন আবার রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার থাকছে না। ফলে সব মিলিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, এই পরিবর্তনের কারণে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব পড়বে না। নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমি আলোচনা মাধ্যমে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছি। উপাচার্য দ্রুতই নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবেন।’

এদিকে, মনোনয়নপত্র বিতরণের মাত্র কয়েকদিন আগে এমন পরিবর্তনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্যাম্পাসের সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলো।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, রাকসু নির্বাচন ঘিরে একধরনের দখলদারত্বের সংস্কৃতি বিদ্যমান। যাদের দখল করার সুযোগ আছে, তারা দখল করার চেষ্টা করছে। আর যারা আধিপত্যবাদী শক্তি কিন্তু দখল করার সুযোগ নেই, তারা নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছে। এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন নিয়েও একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন যদি দ্রুত নতুন কমিশনার নিয়োগ দিয়ে তফসিল ঠিক রাখতে না পারে, তাহলে আমরা এটিকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখব।’

ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ বলেন, ‘পোষ্য কোটা পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রশাসনকে সময় বেঁধে দিয়েছেন। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বিতরণ হয়নি। এখন আবার রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশন থাকছে না। ফলে সব মিলিয়ে আমাদের মাঝে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।’

তবে নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনী কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানান আরেক নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এনামুল হক। তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনারের রদবদলে নির্বাচনের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। প্রশাসন দ্রুতই নতুন কাউকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবে। এর জন্য নির্বাচন দীর্ঘায়িত হবে না। নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হবে। মনোনয়নপত্রও নির্ধারিত ২৪ তারিখ থেকেই বিতরণ শুরু হবে।’

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২২/০৮/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.