এইমাত্র পাওয়া

মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ: অধ্যক্ষকে ফাঁসাতে মিথ্যা ধ র্ষ ণ মামলা করে আয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ  রাজধানীর পল্লবীতে মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খোমনবীশের বিরুদ্ধে তারই সহকর্মীর করা ধর্ষণ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তা। অধ্যক্ষকে ফাঁসাতেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোবাইল লোকেশন, কল রেকর্ড, ডিএনএ এবং সাক্ষীদের বয়ান সবমিলিয়ে উঠে এসেছে এই অধ্যক্ষকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে। 

সম্প্রতি পল্লবী থানা পুলিশের আদালতে দেওয়া অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ পদটি দখল করতে একটি গ্রুপ মরিয়া হয়। এরই জের ধরে গত বছরের ৩১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এক কর্মচারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। পরে এই মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পল্লবী থানা পুলিশকে। 

তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিনের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এই মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দি, ডি.এন.এ টেস্ট, মোবাইল লোকেশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করে উল্লেখ করেন, এ মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বাদী কয়েকজন কুচক্রী-স্বার্থান্বেষী শিক্ষকের কুপরামর্শে ওই কলেজের অধ্যক্ষকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে অত্র পিটিশন মামলা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লে­খ করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লে­খ করা হয়, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২য় তলায় অধ্যক্ষের বাসায় বিবাদী ধর্ষিত হয়। বাদীর ব্যক্তিগত মোবাইলের কললিস্ট সংগ্রহপূর্বক পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ওই তারিখ ও সময়ে বাদী/ভুক্তভোগী মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এতে স্পষ্টতই প্রমাণ হয়, এটা একটা মিথ্যা সাজানো মামলা ছাড়া আর কিছুই নয়। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী দাবি করা নারীর ডি.এন.এ পরীক্ষার ভ্যাজাইনাল সোয়াব এ পুরুষের বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি।

২০১২ সালে মাস্টার রোলে মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়া হিসেবে যোগদান করেন মামলার বাদী ঐ  নারী। ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তার চাকরি স্থায়ীকরণ হয়।  সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাগরিকা বেগম মনি ২০২২ সালের ১৯ জুলাই চাকরি ছেড়ে যাওয়ার পর কখনো স্কুলে আসেননি। অধ্যক্ষের চেয়ার দখলের জন্য ৩-৪ জন ষড়যন্ত্রকারী শিক্ষক মনিকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়েছেন। যা ইতিমধ্যে পুলিশ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

মামলা করার আগে কলেজ শাখার সাবেক শিফট কো-অর্ডিনেটর সাফকাত ইসলাম নিজামীর কাছে মামলার বাদী সাগরিকা বেগম মনি ফোনে অধ্যক্ষকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। তখন বাদী বলেন, অধ্যক্ষ আমার চাকরি খেয়েছে। চাকরির ক্ষতিপূরণসহ চাকরি ফেরত না দিলে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও বড় ধরনের ক্ষতি করব। এর প্রমাণক হিসেবে তাদের দুজনের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড রয়েছে। এই হুমকির পর অধ্যক্ষ গত ২৪ সেপ্টেম্বর মনি ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় জিডি করেন। বাদীর বিরুদ্ধে জিডি করার প্রায় ৩৫ দিন পর মামলা দায়ের করেন। দাবিকৃত ৭ লাখ টাকা না দেওয়ায় এই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করে একজন কর্মচারী জানান, জুলাই মাসে ধর্ষণের দাবি করলেও ৩১ অক্টোবর প্রায় চার মাস পর মামলা হয়। কারণ একটাই সিসিটিভি ক্যামেরায় যাতে মিথ্যে ঘটনাটি ধরা না পড়ে। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে পরিকল্পিত এই মামলা।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মচারীর ভাষ্যমতে, লিটন নামের এক কর্মচারীর সঙ্গে মনির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক সময় লিটনকে নানা সময় ব্ল্যাকমেইল করতেন, যার চাপে বিবাহিত লিটন এক পর্যায়ে আত্মহত্যা করেন।

মনির চাকরি ছাড়ার কারণ হিসেবে পারিবারিক সমস্যা দেখালেও একাধিক শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাষ্যমতে, তিনি আসলে মামলা হতে বাঁচতেই স্বেচ্ছায় চাকরি ত্যাগ করেন। এরপর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ৭ লাখ টাকা দাবি করেন। অধ্যক্ষ সেই টাকা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা (নং ৯৯/২০২৪) দায়ের করেন। যাতে কলেজের ২-৩ জন শিক্ষক সহায়তা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে মিরপুর বাংলা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খোশনবীশ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষক। একটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলার মাধ্যমে আমাকে সমাজের চোখে হেয় করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। একজন শিক্ষকের সম্মান নিয়ে যারা এরকম ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধের অভিযোগ এনে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চক্রটিকে শনাক্ত করার দাবি জানাই।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৫/০৭/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading