জামালপুরঃ বকশীগঞ্জে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা বানানোর কথা বলে দুই শতাধিক মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক হামিদুর রহমান শেফালী মফিজ মহিলা আলিম মাদরাসার ইবতেদায়ি প্রধান। হামিদুর রহমানের বিচার দাবি করেছেন প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা।
রবিবার (৯ মার্চ) গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে হামিদুরের বিরুদ্ধে প্রতারণার শিকার ইসমাইল হোসেন, হাসমত আলী, খলিলুর রহমান, জমিলা বেগম, আবেদন বেগমসহ অনেকেই এই অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, উপজেলার মধ্যপলাশতলা গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে হামিদুর রহমান ২০১৯ সালে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা বানানোর কথা বলে প্রত্যেকের কাছে থেকে পাঁচ থেকে আট হাজার করে টাকা নেন। পরে তাদের সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয়পত্র ও সনদপত্রও দেন তিনি।
‘ঘরে ঘরে জাগ্রত করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ এমন স্লোগানসংবলিত ৭১-এর সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের ব্যানারে একটি করে ভুয়া সার্টিফিকেট দেন প্রতারক হামিদুর রহমান। কিন্তু এসব সনদ যাচাই করতে গিয়ে তারা জানতে পারেন, এগুলো আসলে ভুয়া।
এরপর তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বারবার তাগাদা দিলে হামিদুর রহমান নানাভাবে টালবাহানা শুরু করেন। এমনকি ভুক্তভোগীদের মামলা-হামলার ভয়ভীতি দেখান।
এক সপ্তাহ আগে নাশকতা মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। হামিদুর রহমান নাশকতা মামলায় বর্তমানে জামালপুর জেলহাজতে রয়েছেন।
প্রতারণার শিকার হাছেন আলী বলেন, ‘সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা বানানোর কথা বলে হামিদুর আমার কাছ থেকে সাত হাজার টাকা নেয়। এখন বুঝতে পারছি সে প্রতারণা করছে। যে সার্টিফিকেট দিয়েছে সেটা ভুয়া। তাই হামিদুরের প্রতারণার বিচার চাই।’
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৯/০৩/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল

