নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি কতটা বদলেছে?

ঢাকাঃ এক সময় ঘরের কোণে থাকতে বাধ্য হওয়া নারী সবধরনের কাজের পাশাপাশি মাঠের কাজও করছেন বহু বছর হলো। ফসলের ক্ষেত থেকে শুরু করে করপোরেট অফিস, ঘর থেকে শুরু করে রাজনীতির ময়দান, সব জায়গায় নারীর দৃপ্ত পদক্ষেপ।

মা যেভাবে তার সন্তানকে এগিয়ে নেন জীবনের পথে, তেমনি নারী নিজেকে তো বটেই, টেনে তোলেন গোটা পরিবার ও সামাজকেই। শহর থেকে শুরু করে গ্রাম, ভূপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশ সর্বত্রই স্বমহিমায় অবদান রেখে চলেছেন নারীরা।

শুধু নারী হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও নারীর জয়জয়কার এখন দিকে দিকে। এরপরও নারীকে অবদমন করে রাখার যে চর্চা জারি ছিল যুগে যুগে, সেই দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে- এমনটা বলার সুযোগ নেই। তাহলে কি সর্বত্র নারীর ক্ষমতায়নে এখনও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয়?

গতবছরের জুলাই অভ্যুত্থানের কথাই ধরা যাক। সেই উত্তাল মুহূর্তে রাজপথ কাঁপানো গণমানুষের মিছিলে সামনের সারিতে ছিলেন নারীরাও। অন্যায়ের বিরুদ্ধে, শেকল ভাঙার লড়াইয়ে অবদান ছিল নারীদেরও। তবে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সফল হবার পর বর্তমানে কজন নারীকে দেখছি আমরা? তারা কি হারিয়ে গেলেন?

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত নূর রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘আন্দোলন আর সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার। গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী অনেকগুলো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এখনও স্বাভাবিক হয়নি।’

নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি বেলন, ‘অনেকগুলো পুরুষ নেতৃত্বের মুখোমুখি হয়ে চ্যালেঞ্জ করা এখনও ভাবতে পারেন না অনেক নারী।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, ‘অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমরা আশা করেছিলাম, দেশের পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বিপুল সংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ ঘটবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেটা আমাদের অধরা থেকে গেছে। রাজনৈতিক ব্যবস্থাটা সবার জন্য অংশগ্রহণমূলক করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে সংস্কৃতির পরিবর্তন প্রয়োজন। এতে করে মেয়েরা যে আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিল, সেটা তারা তুলে ধরতে পারবে।’

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৮/০৩/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.