নিজস্ব প্রতিবেদক।। আওয়ামী শাসনামলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলোর গণরুমে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনসহ নানাভাবে র্যাগিংয়ের শিকার হতেন শিক্ষার্থীরা। র্যাগিংয়ের অভিযোগে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মীকে বহিষ্কারসহ বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিও দিয়েছে প্রশাসন।
এরপরও একের পর এক র্যাগিংয়ের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। তবে আওয়ামী সরকারের পতনের পর গণরুম বিলুপ্ত করেছে প্রশাসন। ফলে অবসান হয়েছে গণরুম নামের ‘টর্চার সেলের’। এরপর থেকেই ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ ও যোগ্য প্রতিনিধি গড়ে তুলতে ইবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ইকসু) গঠনে সরব হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পত্র-পত্রিকা ও গল্প-আড্ডায় নিয়মিত আলাপ তুলছেন তারা। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এ নিয়ে স্মারকলিপি প্রদান ও মতবিনিময় করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় ছাত্রসংগঠনগুলো। তবে এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
প্রশাসনের দাবি, নির্বাচিত সরকার তথা সংসদ কর্র্তৃক আইন ছাড়া ইকসু গঠন সম্ভব নয়। তবে আইনবিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ফোরাম (সিন্ডিকেট/সিনেট) চাইলে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করে ছাত্র সংসদ গঠন করতে পারে। এর জন্য জাতীয় সংসদ কর্র্তৃক নতুন আইনপ্রণয়নের দরকার নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন আইন ও ২০১০ সালে সংশোধিত আইনে ছাত্র সংসদ-সংক্রান্ত বিধান রাখা হয়নি। ফলে আইনি জটিলতার দোহাই, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ও বিগত প্রশাসনগুলোর ঢিলেমিতে ছাত্র সংসদ গঠন করা হয়নি। এমনকি ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনগুলোর একক আধিপত্যের কারণে শিক্ষার্থীরাও এ নিয়ে জোরালো দাবিও তুলতে পারেননি। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা ইকসু গঠনের দাবি তুলছেন। এ ছাড়া প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন সময় স্মারকলিপি
দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শিবির, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রমৈত্রী। তবে স্মারকলিপি না দিলেও শিগগিরই ইকসুর দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল।
শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৪৫ বছরেও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে ছাত্র সংসদ গঠন হয়নি।
ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য ও মৌলিক অধিকার যথাযথভাবে পাননি। জুলাই বিপ্লবের অন্যতম দাবি ছিল ছাত্র সংসদ গঠন। কিন্তু প্রশাসন আইনের দোহাই দিয়ে টালবাহানা করছে।
এ বিষয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, তারা কয়েক বছর ধরে ইকসু গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন, তবে নানা গোষ্ঠী নানা স্বার্থে ইকসু গঠন হতে দেয়নি। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই ইকসু গঠন ও নির্বাচন চান তারা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবির সমন্বয়ক এসএম সুইট বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই ইকসু গঠন করা হোক। কারণ নির্বাচিত সরকার ইকসু গঠনে অনীহা দেখাবে বলে আশঙ্কা করছি।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনকে ইকসু প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দাঁড় করালেও, বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে ইকসু গঠন সম্ভব বলে একাধিক আইনবিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ফোরাম (সিন্ডিকেট) চাইলে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরি করে ছাত্র সংসদ গঠন করতে পারে। কেউ কেউ নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ছাত্র সংসদ গঠনের কথা বললেও আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই এটি করতে পারে। আইনের দোহাই দিয়ে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা উচিত নয়।’
অবশ্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকিব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘ছাত্র সংসদ-সংক্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো নেই। তাই ছাত্র সংসদ গঠন করতে হলে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ, আদালতের আদেশ ও সংসদ কর্র্তৃক পাস করা নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে। দলীয় নির্বাচিত সরকার ছাড়া এটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।’
শিক্ষাবার্তা /এ/১৬/০২/২০২৫
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
