শিক্ষা কারিকুলামের প্রতিবাদ জানানোয় মামলা, প্রত্যাহার চান ভুক্তভোগীরা

ঢাকাঃ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রণীত বিতর্কিত শিক্ষা কারিকুলামের প্রতিবাদ জানানোয় দায়ের করা মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং ভুক্তভোগী সবাইকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত শিক্ষা আন্দোলন। এ ছাড়া নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ৯টি প্রস্তাবনা দিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। শিক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর কবিরের সঞ্চালনায় এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কাজী সাইফুল হক পনির।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, গত বছর ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকার একটি গণবিরোধী শিক্ষাক্রম চালু করে। বাংলাদেশের মতো অনুন্নত দেশের সঙ্গে এ শিক্ষা কারিকুলাম যায় না। আমরা সরকারকে তা বাতিলের আহ্বান করলাম। কিন্তু তাঁরা আমাদের দাবি না মেনে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দিপুমনি আমাদের কোচিং ব্যবসায়ী বলে ট্যাগ দেয়।

এক পর্যায়ে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দেয়। তিন মাসেরও বেশি সময় কারাগারে থেকে পরে জামিনে মুক্ত হই।

মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে শিক্ষা আন্দোলনের অন্যতম আহ্বায়ক তাপসী খান বলেন, আমাদের চারজনের নামে মিথ্যা রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা হয়েছে। নানাবিধ হয়রানির শিকার এখনো হচ্ছি।

কোর্টে হাজিরা দিতে যেতে হচ্ছে। এখন আমাদের দাবি হচ্ছে, অবিলম্বে আমাদের ওপর হওয়া হয়রানি বন্ধ করা হোক। মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

ভুক্তভোগী মামলার অন্য আসামি আল আমিন বলেন, আমি স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিতে পারিনি। আমাকে জেলে নেওয়া হয়েছে।

আমি মানসিক ট্রমার মধ্যে ছিলাম। আমার জীবন থেকে একটা বছর কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা আন্দোলনের অন্যতম আহ্বায়ক কাজী সাইফুল হক পনির বলেন, যাদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের ও হয়রানি করা হয়েছে, তাঁদের ক্ষতিপূরণের জোর দাবি জানাচ্ছি। এ ছাড়া আমাদের ৯টি প্রস্তাবনা রয়েছে। তা হলো- ১. শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের চাপপ্রয়োগ নয়, আনন্দের সঙ্গে শিখিয়ে সিভিক সেন্স তৈরি করবে। ২. প্রাথমিক হবে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা থাকবে। ৩. ৭০ নম্বর লিখিত ও ৩০ নম্বর শিখনকালীন মূল্যায়ন বাস্তবায়ন করতে হবে। ৪. আগামী বছর ভারত থেকে কোনো বই ছাপা যাবে না। ৫. সব ক্লাসের বই জানুয়ারি মাসে দিতে হবে। ৬. বিনামূল্যে দেওয়ার নামে নিম্নমানের (কাগজ) বই দেওয়া যাবে না। ৭. সব ধর্মের মর্যাদা সমুন্নত রেখে যার যার ধর্ম বিশ্বাস মতে ধর্মীয় বই সম্পাদন করতে হবে। ৮. দলমতের উর্ধ্বে বই সম্পাদন করতে হবে। ৯. প্রত্যেক শ্রেণির বইয়ে ভদ্রতা, সৌজন্যতা, আদব-কায়দা, সত্যবাদিতা ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে বিস্তর আলোচনা রাখতে হবে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত শিক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ কামরুল ইসলাম, খাদিজা বেগম, মহানগর আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক মো. শাহ আলমসহ বিভিন্ন স্কুলের অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীরা।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৩/০৯/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.