রোহিঙ্গাদের কারনে যে কলেজের ফল বিপর্যয়

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার (এইচএসসি) ফলাফলে কক্সবাজারের উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজটিতে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটেছে। কলেজের ৫৭০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১৭২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র একজন। পাসের হার ৩০.২৯ শতাংশ। এমনই দুর্ভাগ্য যে বিজ্ঞান বিভাগের ছয়জন শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছেন। জানা গেছে, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করে এমন এনজিওগুলোতে চাকরির কারণেই শিক্ষার্থীরা কলেজে অনুপস্থিতসহ লেখাপড়ার প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়েছেন।

১৯৯১ সালে স্থাপিত সীমান্তবর্তী এলাকার সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে অনার্সেরও সাতটি বিষয় রয়েছে। কলেজে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার। শিক্ষক রয়েছেন ৪৬ জন। এ রকম ফল বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটছে গত চার-পাঁচ বছর ধরে। তার পরও কলেজটির পরিচালনা পরিষদ, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা ফিরছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তদুপরি ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ রয়েছে।

ফলাফল প্রকাশের দিন সকাল ১১টায় অনেক শিক্ষক কলেজ ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। নুর মোহাম্মদ সিকদার ও রফিকুল ইসলাম নামের দুই অভিভাবক জানিয়েছেন, তারা কলেজের কোনো শিক্ষার্থীকে এনজিওতে চাকরি না দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু কেউ কর্ণপাত করছেন না।

কলেজের অধ্যক্ষ অজিত কুমার দাশ এ বিষয়ে জানান, শিক্ষার্থীরা কলেজে আসে না। তাদের ভর্তি ও পরীক্ষার সময় দেখা যায়, এর পর থেকে অনুপস্থিত থাকে। শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা শিবিরে এনজিওতে চাকরি করে। অভিভাবক সমাবেশ ডাকলে চার হাজারের মধ্যে তিন-চারজন আসেন।’ তিনি বলেন, এভাবে ফলাফল বিপর্যয় হবে তা কল্পনাতেও ছিল না। বিজ্ঞান বিভাগে ছয়জন শিক্ষক আছেন এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ছয়জন। তবু একজনও পাস না করার বিষয়টি বেদনাদায়ক। তবে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উল্টো অভিযোগ করে বলছেন, শিক্ষকরা ক্লাস তো দূরের কথা, ব্যাবহারিক (প্র্যাকটিক্যাল) ক্লাসও করাননি।

কলেজ পরিচালনা পরিষদের অন্যতম সদস্য ও রাজা পালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ঢলের পর থেকে কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজ বাদ দিয়ে এনজিওমুখী হওয়ায় ফলাফল এ রকম বিপর্যয় হতে শুরু করেছে।

কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক তহিদুল আলম তহিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত এনজিওগুলোতে কলেজের শিক্ষার্থীরা চাকরি করে। এ কারণে লেখাপড়ার প্রতি বিমুখ হয়ে গেছে তারা। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আমার বিভাগের ১৫০ জন শিক্ষার্থীর প্রথম দিনের ক্লাসে একজন ছাত্র উপস্থিত ছিল।’

আবদুল মালেক নামের একজন অভিভাবক বলেন, ‘আমার কন্যা প্রতিদিন কলেজে আসা-যাওয়া করে। প্রাইভেটও পড়ে নিয়মিত। কিন্তু কয়েকটি বিষয় ফেল করে কিভাবে সেটা বুঝলাম না।’ তিনি জানান, কলেজে অভিভাবক সমাবেশ বলে কোনো দিন কলেজ থেকে ডাকেনি। জামাল উদ্দিন নামের অপর একজন অভিভাবকও অনুরূপ কলেজে অভিভাবক সমাবেশে ডাকেনি বলে জানান। অথচ কলেজের অধ্যক্ষ এবং অধ্যাপকদের দাবি, অভিভাবক সমাবেশ ডাকা হলে কাউকে পাওয়া যায় না।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১০/০২/২৩    


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.