website page counter শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত; কোচিং বাণিজ্য আদৌ বন্ধ হবে কি? – শিক্ষাবার্তা

বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬

শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত; কোচিং বাণিজ্য আদৌ বন্ধ হবে কি?

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির পর লেখাপড়ার যে চাপ নিতে হয়; কমবয়সী কোনো শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সে চাপ বহনে নানারকম সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। তাই আজকাল এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ছে। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা নীতিমালা চূড়ান্তকরণ সংক্রান্ত কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, ১৬ বছরের কমবয়সী কোনো শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। আগে ন্যূনতম ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরাও এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উল্লিখিত সভায় স্কুলে ভর্তিবিষয়ক যেসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তির বিষয়ে চিন্তামুক্ত হতে পারবেন।

স্কুলে ভর্তি ও কোচিং বাণিজ্যের কারণে অভিভাবকরা কতটা দিশেহারা তা বহুল আলোচিত। কোচিং বাণিজ্যের নামে একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ শিক্ষক যেভাবে বেপরোয়া হয়ে পড়েছে তা উদ্বেগজনক। কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি অভিযানও চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের এ অভিযান অব্যাহত না থাকলে কোচিং বাণিজ্য যে বন্ধ হবে না, এটাও অনুমান করা যায়।

স্কুলের ভর্তি পরীক্ষায় পাঠ্যবইয়ের বাইরে থেকে প্রশ্ন দেয়ার কারণেই কোচিং বাণিজ্যের রমরমা ব্যবসা জমে উঠত। এখন থেকে জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বইয়ের বাইরে থেকে কোনো প্রশ্ন নিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র তৈরি করা যাবে না। আশা করা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। নতুন নিয়ম অনুসারে শিক্ষার্থী যে শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষা দেবে তার আগের শ্রেণীর বই থেকে প্রশ্নপত্র তৈরির বিষয়টিও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্কুলে ভর্তি পরীক্ষায় এলাকা কোটাবিষয়ক নিয়মটিও ইতিবাচক। এক্ষেত্রে কোনো অভিভাবক কারসাজি করলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

লক্ষ করা যাচ্ছে, বিপুলসংখক শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে কোনো রকমে হাজিরা দেয়ার পরই ছুটতে থাকে কোচিং সেন্টারে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, স্কুল-কলেজের পরিবর্তে কোচিং সেন্টারগুলোই শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার বিষয়ে মূল দায়িত্ব পালন করছে। একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ শিক্ষক নানা অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কোচিং সেন্টারে যেতে বাধ্য করেন। অনেক শিক্ষাবিদ ইতিমধ্যে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, কোচিং বাণিজ্য বন্ধ না হলে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিক্ষা ব্যবস্থায়। আশার কথা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়া হলে তারা ভিন্ন নামে কোচিং বাণিজ্য যে অব্যাহত রাখবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।-যুগান্তর

এই বিভাগের আরও খবর