website page counter প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ – শিক্ষাবার্তা

বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ৫ বৈশাখ ১৪২৬

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ

হোমনা উপজেলার আসাদপুর হাজী সিরাজ-উদ-দৌল্লা ফারুকী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে তিন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সই জাল করে সমাজসেবা কার্যালয় থেকে অন্য শিক্ষার্থীদের দিয়ে চেক উত্তোলন করে তাদের ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় গত ৭ এপ্রিল বিদ্যালয়ের ওই তিন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মো. নুর নবী, মো. আজিজুল হক ও মো. রাব্বী তাদের টাকা ফেরত চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ অভিযোগ করে।

উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়নের আসাদপুর হাজী সিরাজ-উদ-দৌল্লা ফারুকী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জালাল উদ্দিন তিন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সই জাল করে উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে তাদের নামীয় ৭ হাজার ২০০ টাকা করে ৩টি চেক গ্রহণ করে সোনালী ব্যাংক থেকে ২১ হাজার ৬০০ টাকা উত্তোলন করেন।

চেকগুলো যথাক্রমে মো. নুরনবী চেক নং ৮৫৮২৪২২, মো. আজিজুল হক চেক নং ৮৫৮২৪২৩ ও মো. রাব্বী চেক নং-৮৫৮২৪২৪। তবে চেক বিতরণ শিটে যে সই রয়েছে এটি তাদের সই নয়, এখানে তাদের সই জাল করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করে। তাদের নামের ৭ হাজার ২শ’ টাকা করে উত্তোলন করা হলেও তাদের মাত্র ২ হাজার টাকা করে দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জালাল উদ্দিন। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তাদের টাকা ফেরত পেতে লিখিত অভিযোগ করে।

শিক্ষার্থী মো. নুর নবী জানায়, ৪ বছর ধরে ভাতা পেয়ে আসছে। কোনো বছরই সে তার পুরো টাকা পায়নি। কোনো বছর ২ হাজার থেকে চার হাজার পর্যন্ত পেয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তার ভাতার টাকা ইমরান নামের আরেক শিক্ষার্থীকে দিয়ে প্রধান শিক্ষক উত্তোলন করেন এবং তাকে ২ হাজার টাকা দেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে সেসহ তিনজন ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেছে। অভিযোগ করার পর প্রধান শিক্ষক তার বাড়িতে এসে বাকি টাকা ফেরত দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, তিনি টাকা উত্তোলন করেননি। অফিস সহকারী টাকা উত্তোলন করেছেন। তিনি কোনো টাকা আত্মসাৎ করেননি। তারা তাদের টাকা পেয়ে গেছে এবং তাদের অভিযোগ তারা প্রত্যাহার করবে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রমজান আলী বলেন, চেক বিতরণের সময় প্রতি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ইউএনও তাকে বিষয়টি তদন্ত করতে দিয়েছেন। উভয়পক্ষকে ডেকে প্রয়োজনে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজগর আলী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পৃথক ৩টি অভিযোগ পেয়েছি, সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে দায়িত্ব দিয়েছি।’সুত্র সমকাল

এই বিভাগের আরও খবর