website page counter যে কারণে স্মার্টফোনের ব্যাটারির চার্জ দ্রুত ফুরায় – শিক্ষাবার্তা

বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ৫ বৈশাখ ১৪২৬

যে কারণে স্মার্টফোনের ব্যাটারির চার্জ দ্রুত ফুরায়

মাহবুব শরীফ।।

উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মতো এখন আমাদের দেশেও স্মার্টফোনের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্যামসাং, এলজি, এইচটিসি’র মতো বড় বড় স্মার্টফোন কোম্পানির পাশাপাশি এখন সিম্ফনি কিংবা ওয়ালটনের মতো দেশিয় ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনও বাজারে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোন সহজলভ্য হওয়ার কারণে হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়ছে স্মার্টফোন। তবে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের একটি সাধারণ অভিযোগ এর ব্যাটারির আয়ুষ্কাল নিয়ে। অনেকেই বলে থাকেন, স্মার্টফোনের চার্জ থাকে না। আসলে স্মার্টফোনের উন্নত কনফিগারেশন এবং হাই-এন্ড সব অ্যাপ্লিকেশনের কারণেই স্মার্টফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ আশানুরূপ পাওয়া যায় না অনেক সময়েই। এই পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি আশা করার মতো বাস্তব কারণ নেই। স্মার্টফোনের জন্য তাই নতুন ধরনের ব্যাটারি তৈরি নিয়েই গবেষণা চলছে নিরন্তর। তবে এখনকার যে স্মার্টফোনগুলো রয়েছে, সেগুলোর ব্যাটারির আয়ুকেই একটু বাড়িয়ে নেওয়ার কিছু উপায় রয়েছে। এই লেখায় সেরকম কিছু টিপস দেওয়া হলো।

ডিসপ্লে’র উজ্জ্বলতা কম রাখুন

স্মার্টফোনের ব্যাটারির চার্জ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে এর ডিসপ্লে। আধুনিক সব স্মার্টফোনে রয়েছে হাই রেজ্যুলেশনের ডিসপ্লে। চমত্কার এসব ডিসপ্লে চালাতে আপনার স্মার্টফোনের ব্যটারির বড় একটি অংশ খরচ হয়ে যায়। কাজেই এই ডিসপ্লে’র উজ্জ্বলতা যদি খানিকটা কমিয়ে রাখতে পারেন, তাহলে অনেকটা চার্জ সাশ্রয় করতে পারবেন। বেশিরভাগ স্মার্টফোনেই রয়েছে ‘অটো ব্রাইটনেস’ ফিচার। এটি ব্যাটারির চার্জ খরচ কমাতে ডিসপ্লেকে নির্দিষ্ট উজ্জ্বলতায় চালু রাখে। তবে আপনি সহনীয় সর্বনিম্ন মাত্রার উজ্জ্বলতায় আপনার ফোনের ডিসপ্লেকে চালু রাখলে এটি আরও বেশি চার্জ সাশ্রয় করবে।

স্ক্রিন টাইমআউট কম রাখুন

যখন আপনি আপনার ফোনে কোনো কাজ করবেন না, তখন আপনার ফোনের ডিসপ্লে বন্ধ রাখুন। ফোনের মধ্যে স্ক্রিন টাইমআউট বা সমধর্মী কোনো অপশন থাকে। এই অপশনে যে সময় নির্ধারণ থাকে, সেই সময়ের মধ্যে ফোনে কোনো কমান্ড ইনপুট না করা হলে ডিসপ্লে বন্ধ হয়ে যায়। এই সময়ের পরিমাণ যথাসম্ভব কম রাখুন। তাহলে ফোনটি ব্যবহার না হলে ডিসপ্লে বন্ধ থাকবে এবং চার্জ খরচ হবে না।

ব্লুটুথ বন্ধ রাখুন

সার্বক্ষণিক ব্লুটুথ চালু থাকলে তা ফোনের চার্জ খরচ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কাজেই প্রয়োজন না থাকলে ব্লুটুথ চালু রাখবে না। অনেকেই ব্লুটুথ হেডসেট ব্যবহার করে থাকেন। গাড়ি চালানোর সময় ব্লুটুথ হেডসেট চালু রাখেন অনেকেই। তবে ব্লুটুথের মাধ্যমে যখন কাজ করবেন না, তখন একে বন্ধ রাখাই ভালো।

ওয়াই-ফাই অফ রাখুন

স্মার্টফোন আছে অথচ ওয়াই-ফাই ব্যবহার করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে এ ক্ষেত্রেও যখন আপনি ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মধ্যে নেই এবং নেটওয়ার্কের মধ্যে থেকেও ওয়াই-ফাই ব্যবহার করছেন না, তখন একে বন্ধ রাখাই ভালো। অন্যাথায় ওয়াই-ফাই যতক্ষণ চালু থাকবে, এটি আপনার ফোনের চার্জ খরচ করতেই থাকবে।

জিপিএস ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

স্মার্টফোনের চার্জ খরচ করতে বড় ভূমিকা রাখা আরেকটি নিয়ামক হচ্ছে জিপিএস। এখন স্মার্টফোনের নানা ধরনের অ্যাপ্লিকেশন জিপিএস ব্যবহার করে থাকে। ফোনের জিপিএস চালু থাকলে এটি সার্বক্ষণিক আপনার ফোন থেকে স্যাটেলাইটের সাথে যোগাযোগ করতে থাকে বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে। ফলে ব্যাটারির চার্জ খরচ হতে থাকে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ্লিকেশন এখন জিপিএস ব্যবহার করে আপনার অবস্থানের তথ্য শেয়ার করে অনলাইনে। জিপিএস যেহেতু অনেক চার্জ খরচ করে, তাই সব ধরনের অ্যাপ্লিকেশনে এটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়াই ভালো। অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করার সময়েই জিপিএস ব্যবহারের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করুন।

মাল্টিটাস্কিংয়ে সতর্ক থাকুন

আধুনিক স্মার্টফোনের অন্যতম প্রধান একটি ফিচার হচ্ছে মাল্টিটাস্কিং। তবে এই কাজে কিন্তু প্রসেসর প্রচুর শক্তি খরচ করে। আপনার প্রয়োজনে অবশ্যই একাধিক অ্যাপ্লিকেশন একসাথে ব্যবহার করতে পারেন, তবে প্রয়োজন না পড়লে সেটা না করাই ভালো। তাতে করে চার্জের সাশ্রয় ঘটবে।

নোটিফিকেশনে সতর্ক থাকুন

বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের নোটিফিকেশনকে খুব প্রয়োজনীয় ফিচার মনে করেন অনেকেই। বিশেষ করে অ্যাপ্লিকেশন চালু না রেখেই এগুলোর আপডেট পাওয়া একটি বড় সুবিধা বটেই। তবে যারা চার্জ নিয়ে চিন্তিত, তাদের এই সুবিধা সতর্কভাবে গ্রহণ করাই ভালো। কেননা নোটিফিকেশন মূলত ইন্টারনেট সংযোগকে সার্বক্ষণিক চালু রাখার মাধ্যমেই আপনাকে আপডেট প্রদান করে। এতে করে চার্জের খরচটাও হয় সার্বক্ষণিক। কাজেই কিছু নোটিফিকেশন বন্ধ রাখলে যে আপনার ফোনের চার্জের সাশ্রয় ঘটবে, তা তো বুঝতেই পারছেন।

এই বিভাগের আরও খবর