website page counter বাড়তি চাপ ও ভারমুক্ত হউক প্রাথমিক শিক্ষা – শিক্ষাবার্তা

বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬

বাড়তি চাপ ও ভারমুক্ত হউক প্রাথমিক শিক্ষা

আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্য সামান্য নহে। এই স্তরের শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা ও নানা প্রণোদনামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার প্রায় শতভাগ।

উপবৃত্তি ও বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণও শিক্ষায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলিয়াছে। তবে এখন যেসব অভিযোগ রহিয়াছে, তাহার মধ্যে অন্যতম হইল অতিরিক্ত বই, খাতা ও পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে এই স্তরের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর সার্বিক চাপ সৃষ্টি করা। পরিস্থিতি এমন হইয়াছে যে, কোনো কোনো বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের দুইটি ব্যাগ বহন করিতে হয়। একটি শিক্ষার্থীরা নিজে ও অপরটি অভিভাবকরা বহন করেন।

হাইকোর্ট বয়স ও ওজনভেদে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত বই-খাতা বহন করিবার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করিলেও তাহা কেহ মানিতেছেন না। এই অতিরিক্ত বইয়ের পাশাপাশি মাত্রাতিরিক্ত পরীক্ষাও শিক্ষার্থীদের সোনালি শৈশব কাড়িয়া নিতেছে। নিয়মিত ক্লাস ও মূল্যায়ন পরীক্ষার পাশাপাশি সাপ্তাহিক, মাসিক, অর্ধবার্ষিক, বার্ষিক ইত্যাদি কত ধরনের পরীক্ষা যে আছে তাহার ইয়ত্তা নাই।

কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একবত্সরে ২০-৩০টিরও অধিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এইভাবে এইসব বিদ্যালয় যেন শিক্ষাকেন্দ্রের বদলে কেবল পরীক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হইয়াছে।

উপর্যুক্ত পরিস্থিতিতে সমপ্রতি প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়াছেন যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম হইতে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা থাকিবে না।

সম্ভব হইলে আগামী ডিসেম্বর হইতেই তাহা কার্যকর করিতে চাহে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্ভব না হইলে ২০২০ শিক্ষাবর্ষ হইতে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জোর প্রস্তুতি চলিতেছে। বর্তমানে যে শিক্ষানীতি রহিয়াছে, তাহার খসড়ায় প্রথম হইতে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা উঠাইয়া দেওয়ার কথাই বলা হইয়াছিল।

কিন্তু শিক্ষানীতি চূড়ান্ত করিবার সময় তাহা আমলে নেওয়া হয় নাই। এখন প্রশ্ন হইল, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পর শিক্ষার্থীদের কীভাবে মূল্যায়ন করা হইবে? বলা হইতেছে ক্লাসে উপস্থিতি, হোম ওয়ার্ক ও ক্লাসওয়ার্কের ভিত্তিতে তাহাদের মূল্যায়ন করা হইবে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয় নাই।

তবে শীঘ্রই এই ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা শুরু হইবে। এইক্ষেত্রে ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ উন্নত বিশ্বের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের কথা বলা হইয়াছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করিয়া বলিয়াছেন যে, শিশুদের উপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নহে।

তাহারা যেন খেলিতে খেলিতে হাসিতে হাসিতে সুন্দরভাবে নিজের মতো করিয়া নিজে পড়িতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা উচিত।

উল্লেখ্য, দেশে এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৯৩টি। আর বেসরকারি, কিন্ডারগার্টেন, এনজিওসহ সব ধরনের শিক্ষার্থী মিলাইয়া স্কুলের সংখ্যা প্রায় সোয়া এক লক্ষ।

এই স্তরে প্রায় এক কোটি ৮০ লক্ষ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। সুতরাং এই বিপুল শিক্ষার্থীর জন্য যেকোনো সিদ্ধান্ত গভীর চিন্তা-ভাবনা করিয়াই নেওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত চাপ দেওয়া যাইবে না, আবার একেবারে ছাড়িয়া দিলেও চলিবে না।

তবে প্রাথমিক হইতে শুরু করিয়া মাধ্যমিক পর্যন্ত মাত্রাতিরিক্ত পরীক্ষা, অনৈতিক প্রতিযোগিতা, মেধাতালিকা ইত্যাদি না থাকাই বাঞ্ছনীয়। অতএব, শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত দিক-নির্দেশনাকে আমরা স্বাগত জানাই।সুত্র ইত্তেফাক

এই বিভাগের আরও খবর