website page counter ভ্যাট নিচ্ছে স্কলাস্টিকা – শিক্ষাবার্তা

বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬

ভ্যাট নিচ্ছে স্কলাস্টিকা

ঢাকার ইংরেজি মাধ্যমের খ্যাতনামা বিদ্যালয় ‘স্কলাস্টিকা’। প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি, টিউশন ফির ওপর ভ্যাট (মূসক) আদায় করলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছে না। নিজেদের একাউন্টে রেখে দিচ্ছে।

স্কলাস্টিকার কাগজপত্র যাচাই করে ১০ কোটি ১৮ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট।

এর বাইরেও ব্যবসায়িক গোষ্ঠী অ্যাসেন্ট গ্রুপের সহযোগী এই প্রতিষ্ঠানটি ব্যয় ও কেনাকাটার ক্ষেত্রে কয়েক কোটি টাকার উৎসে ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে এনবিআর। এ দুই ঘটনায় স্কলাস্টিকার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হবে।

এনবিআর সূত্রের বরাত দিয়ে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম শেয়ার বিজ।

তবে স্কলাস্টিকা লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈয়দ মেহের মোর্শেদ দাবি করেন, ‘আমরা ভ্যাট নিই না।’ বিস্তারিত জানতে ই-মেইল করার পরামর্শ দেন তিনি। পরবর্তিতে ই-মেইলের কোনো জবাব তিনি দেননি।

স্কলাস্টিকার ব্যবস্থাপক আহসান বলেন, ‘টিউশন ফির ওপর ভ্যাট বিষয়ে পরিষ্কার না করে আমাদের চিঠি দিয়েছে ভ্যাট বিভাগ। আমরা তার জবাব দিয়েছি।’

আদালত এনবিআরের পক্ষে রায় দেওয়ার পরও স্কলাস্টিকা ১৮ মাস ধরে ভ্যাট দেয়নি কেন—এমন প্রশ্নে আহসান বলেন, ‘আদালত বলেছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। আমরা ভ্যাট ছাড়া ফি কালেকশন করি। আদালত স্পষ্ট করেনি কারা ভ্যাট দেবে।’

স্কলাস্টিকার দৈনিক স্টেটমেন্টে ভ্যাট কালেকশনের প্রমাণ পেয়েছে ভ্যাট বিভাগ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো কমিউনিকেশন গ্যাপ আছে, আমরা কোনো ভ্যাট কালেকশন করি না।’

এনবিআর সূত্র জানায়, স্কলাস্টিকার ধানমন্ডি, মিরপুর, উত্তরা ও গুলশানে পাঁচটি শাখা রয়েছে। স্কুলটি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করলেও পরিশোধ করে না। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ের ক্ষেত্রে উৎসে ভ্যাট পরিশোধ করছে না বলে অভিযোগ পায় এনবিআর। ভ্যাট পরিশোধে স্কলাস্টিকাকে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু আদালতের দোহাই দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট পরিশোধে গড়িমসি করে আসছে।

এনবিআরের নির্দেশে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (উত্তর) প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১১ মার্চ ভ্যাট গুলশান বিভাগের ডেপুটি কমিশনার একেএম সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তার টিম স্কলাস্টিকার গুলশান অফিসে অভিযান চালায়। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করা হয় না, আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে—এমন তথ্য দিয়ে স্কলাস্টিকার কর্মকর্তারা ভ্যাট কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত ও বাধা দেয়। বাধা পেরিয়ে ভ্যাট কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট-সংক্রান্ত কাগজপত্র, বার্ষিক প্রতিবেদন ও দৈনিক কালেকশন শিট জব্দ করে।

জব্দ করা কাগজপত্র যাচাই করে কর্মকর্তারা দেখতে পান, স্কলাস্টিকার পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের দৈনিক কালেকশন স্টেটমেন্টে ভ্যাট আদায়ের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

স্কলাস্টিকার ধানমন্ডি ও মিরপুর শাখার চলতি ৬ মার্চের কালেকশন স্টেটমেন্টে দেখা যায়, ধানমন্ডি শাখা ৬ মার্চ ১২ লাখ ৬৭ হাজার ১৫ টাকা আদায় করেছে। এর মধ্যে ভ্যাট আদায় করেছে চার লাখ ৫২ হাজার ৯৪০ টাকা। আর মিরপুর শাখা একই দিন ২৬ লাখ আট হাজার ২২ টাকা আদায় করেছে। এর মধ্যে ভ্যাট আদায়ে করেছে আট লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৫ টাকা। একইভাবে প্রতিদিনই ভ্যাট আদায় করেছে বলে প্রমাণ পেয়েছেন ভ্যাট কর্মকর্তারা।

জব্দ করা স্টেটমেন্ট ও কাগজপতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৮ মাস একইভাবে টিউশন ও ভর্তি ফিসহ এ-সংক্রান্ত সেবার ওপর ভ্যাট আদায় করলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে এক টাকাও জমা দেয়নি। ১৮ মাসে সাড়ে ৭ শতাংশ হারে কমপক্ষে ১০ কোটি ১৮ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

স্কলাস্টিকা একটি লিমিটেড প্রতিষ্ঠান। ভ্যাট আইন অনুযায়ী লিমিটেড প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা ও ব্যয়ের ওপর উৎসে ভ্যাট প্রযোজ্য। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সঠিক ব্যয় দেখায় না। জব্দ করা কাগজপত্র যাচাই করে কর্মকর্তারা জানান, উৎসে ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হবে। তবে তথ্য যাচাই শেষে ফাঁকির পরিমাণ জানা যাবে।

ভ্যাট গুলশান বিভাগের ডেপুটি কমিশনার একেএম সুলতান মাহমুদ স্কলাস্টিকায় অভিযান চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

১৯৭৭ সালে ধানমন্ডির একটি ভাড়া বাড়িতে চালু হয় স্কলাস্টিকা টিউটোরিয়াল। ২০০১ সালে ঢাকার উত্তরায় নিজস্ব ভবনে ‘প্লে’ গ্রুপ থেকে ‘ও’ লেভেল পর্যন্ত চালু হয়ে কিছুদিন পর ‘এ’ লেভেলে উন্নীত হয়। বর্তমানে পাঁচটি শাখা রয়েছে।সুত্র শেয়ার বিজ

এই বিভাগের আরও খবর