website page counter ‘বঙ্গবন্ধু’ ও ‘বাংলাদেশ’- দুটি নাম একটি ইতিহাস – শিক্ষাবার্তা

বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬

‘বঙ্গবন্ধু’ ও ‘বাংলাদেশ’- দুটি নাম একটি ইতিহাস

‘বঙ্গবন্ধু’ ও ‘বাংলাদেশ’- দুটি নাম একটি ইতিহাস। এক এবং অভিন্ন সত্তা। যেন একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট গঠন, আটান্নর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ছেষট্টির ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধসহ এ দেশের সাধারণ মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আজ জাতি অভাবনীয় শূন্যতা অনুভব করে।

বাঙালি জনমানুষ যখন আন্দোলিত হচ্ছিল, তখন ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের শেষ পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু বজ্র কণ্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। তিনি প্রথমে মুক্তি ও পরে স্বাধীনতার কথা বলেন। তীক্ষ্মদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষটি স্বচিত্তে মুক্তির জন্য যে স্বাধীনতার প্রয়োজন তা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন। মুক্তি মানে সব ধরনের শোষণ থেকে মুক্তি। অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সব ক্ষেত্রে মুক্তি। একটা স্বাধীন জাতিই কেবল পারে ওই ধরনের মুক্তির প্রত্যাশা করতে। তাই তার ভাষণ গোটা জাতিকে স্বাধীনতার আকাক্সক্ষায় উন্মাদ করে তোলে। বাংলার প্রতিটি মানুষের রক্তে জাগিয়ে তোলে দুর্বার শক্তি, যে শক্তির সামনে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তানের প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী এবং এ দেশের স্বাধীনতাবিরোধী চক্র।

‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো’ এবং ‘যার যা কিছু আছে তা নিয়ে শত্রুকে মোকাবিলা করো’ এসব কথার মাধ্যমে তিনি বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। এমনকি ‘আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি’ উচ্চারণের মধ্যে ছিল জাতির মুক্তি আন্দোলনে নিবেদিত অন্যান্য নেতাকর্মী ও আপামর জনতার বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর মুক্তিমন্ত্র।

বঙ্গবন্ধু দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মানচিত্রে এক লৌহমানব। তাঁর চিন্তা-চেতনা, তাঁর স্বপ্ন, তাঁর অপরিসীম আত্মত্যাগের ফলশ্রুতিতে মরণভীতু বাঙালি জাতি জাগরণের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে স্বাধীনতার যুপকাষ্ঠে প্রাণ দিতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। বঙ্গবন্ধুর কাছে এ জাতির ঋণ অপরিশোধ্য। আজ তাঁর জন্মদিনে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

মহামানবের জন্মদিনে আমাদের অঙ্গীকার, আমরা নতুনরাই বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত করব। ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ বিশ্বকবির এ চয়নকে প্রতিষ্ঠিত করতে নিজস্ব স্বার্থকে বড় করে না দেখে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে আমরা মানুষের কল্যাণে, উন্নত, সুখীসমৃদ্ধ, সুসভ্য, আধুনিক ও মুক্তিযুদ্ধচেতনা নির্ভর রাষ্ট্র গড়ার কাজে হাত বাড়াব। বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে সোনার বাংলা গড়ায় আমাদের জাতির পিতার অসমাপ্ত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবোই- এই আমাদের অঙ্গীকার। এ ধরণী ধন্য আজ তোমারই পদচিহ্নে, কোটি প্রাণের শ্রদ্ধাঞ্জলিতে সিক্ত হোক জন্ম

এই বিভাগের আরও খবর