৬ ফেব্রুয়ারির পর শিক্ষাকার্যক্রম শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির পর আংশিকভাবে পুনরায় শিক্ষাকার্যক্রম শুরুর আভাস মিলেছে। যদিও সরকারি বিধিনিষেধের কারণে গত ২১ জানুয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ছুটি চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তবে গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তের কারণে ৬ ফেব্রুয়ারির পর আংশিকভাবে পুনরায় শিক্ষাকার্যক্রম শুরুর আভাস মিলেছে।

এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু স্থগিত পরীক্ষা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পুনরায় শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। একই সাথে অধিক প্রতিযোগিতাপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষাগুলোর মধ্যে অন্যতম মেডিক্যাল ও ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষারও তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ পরিস্থিতিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সংশোধিত সময় ঘোষণা করা হয়েছে।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পরীক্ষা শুরু করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা অবস্থায় নতুন করে পরীক্ষা শুরুর ঘোষণার মধ্যেই বোঝা যাচ্ছে যে, চলমান ছুটি শেষ হওয়ার পর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু না হলেও পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষাকার্যক্রম পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত পরীক্ষা সংশোধিত সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পরীক্ষাসমূহ শুরু হবে।

সব পরীক্ষার পরিবর্তিত বিস্তারিত সময়সূচি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেwww.nu.ac.bd দেয়া হয়েছে। অবশ্য দেশে ওমিক্রন ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২১ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সে আলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এ দিকে দেশের সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। আর ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা হবে একই মাসের ২২ তারিখে। গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা: মো: শারফুদ্দিন।

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামী ১ এপ্রিল এমবিবিএস আর ২২ এপ্রিল বিডিএসের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে পরিস্থিতি খারাপ হলে পরীক্ষা পেছানো হতে পারে। পরীক্ষা সংক্রান্ত সব কিছু গাইডলাইন আকারে শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি। অন্য দিকে চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের পরীক্ষা চলমান থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সেশনজট ও চাপ কমাতে বন্ধের মাঝেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। সরকারি সাত কলেজের সমন্বয়ক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

অধ্যাপক সেলিম বলেন, চলমান ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ, মাস্টার্স প্রথম পর্ব ও বিভিন্ন বর্ষের চলমান ব্যবহারিক পরীক্ষাগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে। পরিস্থিতি খারাপ না হলে অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষাও পূর্বঘোষিত সম্ভাব্য সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, জানুয়ারি মাসের পুরো সময়টাই মূলত শিক্ষার্থী ভর্তি ও বই বিতরণের কাজে চলে যায়। কিন্তু এ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণায় অনেক কাজেই বিলম্বিত হচ্ছে। তবে ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখের পর অনেক কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম পুনরায় শুরুর অনুমতি চান প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। একই সাথে আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের স্বল্প পরিসরে ক্লাস শুরুরও দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকদের অনেকে।