ঢাকা: শিক্ষা প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর মহাপরিচালক (ডিজি) পদটি প্রায় ছয় মাস ধরে শূন্য থাকায় সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য থাকায় শিক্ষা ক্যাডারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা ও তদবির লক্ষ করা যাচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকার তাদের দায়িত্বের শেষ সময়ে একাধিক প্রচেষ্টা চালিয়েও পদটিতে কাউকে নিয়োগ দিতে পারেনি। এর পর প্রায় দুই মাস আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হলেও এখনো পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ পদে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
তবে অবশেষে এ পদে নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলকে মাউশির নতুন ডিজি হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখের ছুটির দিনেও বিশেষ ব্যবস্থায় ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয় বলে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, “শিক্ষামন্ত্রী অনেক আগেই ড. সোহেলকে এ পদে চূড়ান্ত করেন। কিন্তু উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন না পাওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়।”
তিনি আরও বলেন, “অন্য যোগ্য কর্মকর্তাদের বিবেচনায় না এনে পদটি দীর্ঘদিন শূন্য রাখা হয়েছে, যা কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে।
জানা গেছে, অধ্যাপক ড. সোহেল বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ১৬তম ব্যাচের কর্মকর্তা এবং বর্তমানে শিক্ষা ক্যাডার সমিতির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অতীতে তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে মাউশির মাধ্যমিক বিভাগের পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয় এবং পরে শিক্ষামন্ত্রীর পিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বর্তমানে তাকে ডিজি পদে বসানোর বিষয়ে জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিজি পদ ঘিরে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা
মাউশির ডিজি পদটি গত এক বছর ধরে অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে অধ্যাপক এহতেসাম উল হককে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও মাত্র ২০ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর একই বছরের ১৪ অক্টোবর অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খানকে ডিজি পদ থেকে অপসারণ করা হয়। তার পর অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) বি এম আবদুল হান্নান অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে গত ৯ এপ্রিল তাকেও সরিয়ে দেওয়া হলে পদটি সম্পূর্ণ শূন্য হয়ে পড়ে।
প্রশাসনে প্রভাব
শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ডিজি পদ শূন্য থাকায় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত, বদলি-পদায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী নিয়োগ না হলে শিক্ষা প্রশাসনে অচলাবস্থা আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। অনুমোদন মিললে যে কোনো সময় প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
শিক্ষাবার্তা /এ/ ১৫/০৪/২০২৬
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
