নিজস্ব প্রতিবেদক:
শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বোর্ড পরীক্ষার দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “১২ মাস চাকরি করে আটটা বোনাস নেওয়া যাবে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট হবে—এটা হতে পারে না।”
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট-এর সম্মেলন কক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর পাঠ্যক্রমে টেকনিক্যাল কোর্স অন্তর্ভুক্তকরণ সংক্রান্ত এক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বোর্ড পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপে—প্রশ্ন প্রণয়ন, খাতা মূল্যায়ন এবং ফল প্রকাশ—অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন সুবিধা পেলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। তার মতে, এই দীর্ঘসূত্রতা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রযাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মেধাবী শিক্ষকদের প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত না রেখে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে নিয়োজিত রাখা জরুরি। এতে শিক্ষার মান উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থীরা সরাসরি উপকৃত হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু পরিদর্শক ধীরে ধীরে অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন বলে তার কাছে তথ্য এসেছে। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির আশ্বাস দেন তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিদেশ প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক কর্মকর্তা বিদেশে প্রশিক্ষণ নিলেও দেশে ফিরে তার বাস্তব প্রয়োগে আগ্রহী নন। এ প্রবণতা বন্ধে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পর অন্তত তিন বছর দায়িত্ব পালন বাধ্যতামূলক করা হবে।
ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান যথাযথ লাইসেন্স, নিবন্ধন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পরীক্ষায় নকল বন্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রচলিত নকল কমলেও এখন ডিজিটাল নকলের প্রবণতা বাড়ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি টেকনিক্যাল ও জীবনভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-কে দেশের বৃহত্তম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে কলেজগুলোর কার্যক্রমে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ-এর ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমানুয়েল আব্রিউক্স।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল

