নিজস্ব প্রতিবেদক।।
নতুন সরকারপ্রধানের সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘোষণা এবং দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক আশার সঞ্চার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
সরকারের সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে টিআইবির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন যে, বর্তমান সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে, তা জনগণের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি প্রধান উল্লেখ করেন যে, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক মনে হলেও কয়েকজন মন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যে জনমনে কিছুটা হতাশা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মনে করেন, কেবল ঘোষণা দিলেই হবে না, বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর দৃশ্যমান বাস্তবায়ন জরুরি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান সরকার ও সকল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং পেশাজীবী সংগঠনকে সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণের প্রভাবমুক্ত করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা না গেলে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব নয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে টিআইবি বেশ কিছু সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পেশ করেছে। সংস্থাটি একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করার পাশাপাশি বিতর্কিত বাহিনী র্যাব বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছে।
এ ছাড়াও ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, দলবাজি, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দখলবাজিকে স্বাভাবিক হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার যে অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়, তার বিরুদ্ধে সরকারকে অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। টিআইবি মনে করে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই অপসংস্কৃতি দূর করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমেই প্রকৃত সুশাসন নিশ্চিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, কেবল শীর্ষ পর্যায়ে নীতি নির্ধারণ করলেই দুর্নীতি কমবে না, বরং তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি দপ্তরগুলোতে সেবার বিনিময়ে ঘুষ বা হয়রানির যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা দূর করতে কঠোর তদারকি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানায় সংস্থাটি।
দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের এই অগ্রযাত্রায় তারা সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। বর্তমান সরকারের জন্য এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এর মাধ্যমেই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথ প্রশস্ত হবে বলে সংস্থাটি বিশ্বাস করে।
শিক্ষাবার্তা /এ/০৫/০৩/২০২৬
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
